সাঈদ খোকনের বিরুদ্ধে শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ

এবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন মার্কেটের অবৈধ দোকানকে বৈধ করার নামে শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক

মেয়রের বিরুদ্ধে। শুধু ফুলবাড়িয়া-২ মার্কেট থেকেই ২০১৮ সালে সাঈদ খোকন ২১ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে দাবি করছেন দোকান মালিক সমিতির সভাপতি। তবে

সব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে সাবেক মেয়র সাঈদ খোকন বলছেন, তাকে হেয় করতেই এ সব ষড়যন্ত্র। নকশাবর্হিভূত ও পার্কিংয়ের জায়গায় দোকান থাকায় সম্প্রতি ফুলবাড়িয়া-২ মার্কেটে অবৈধ উচ্ছেদ শুরু করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। মার্কেট দোকান সমিতি বলছে, ২০১৮ সালে দক্ষিণ সিটির সাবেক মেয়র সাঈদ খোকনের শেষ সময়ে গুলিস্তান ফুলবাড়িয়াএলাকার ১৬টি মার্কেটে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। তখন অবৈধ দোকানকে বৈধতা দেওয়ার কথা বলে প্রতি দোকান থেকে লাখ লাখ টাকা উত্তোলন

করা হয়। এক দোকান মালিক বলেন, সাঈদ খোকন ক্ষমতা ছাড়ার ঠিক কিছুদিন আগে প্রত্যেক দোকানে তালা দিয়ে দিয়েছেন। তাদের উদ্দেশ্য একটাই ছিল, যদি টাকা না দেয় তারা তালা খুলতে দেবে না। আরেক দোকন মালিক বলেন, মার্কেট কর্তৃপক্ষ দেলোয়ার হোসেন আমাদের থেকে মোট ১৬ লাখ ৫০ হাজার করে টাকা নিয়েছেন। আমরা ব্যবসায়ীরা কোথায় যাব। আমরা তো রাস্তায় বসে গেছি। শুধু ফুলবাড়িয়া-২ মার্কেট থেকে ২১ কোটি টাকা তুলেছে মালিক সমিতি। আর ওই টাকা সাঈদ খোকনকে দেওয়ার জন্য জমা দেন ফুলবাড়িয়া মার্কেটের লোপাটের মূল হোতা ফুলবাড়িয়া মার্কেট-২ এর সভাপতি দেলোয়ার হোসেন দেলুর অ্যাকাউন্টে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি মার্কেট ফেডারেশনের

সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ আহমেদ বলেন, আমরা দুই লাখ, তিন লাখ ও পাঁচ লাখ করে টাকা নিয়ে তিনশ থেকে সাড়ে তিনশ দোকানের ভাড়া কাটার জন্য প্রায় ২১ কোটি ৪০ লাখ টাকা উত্তোলন করেছি। আর দেলোয়ার হোসেন তার অ্যাকাউন্ট থেকে উত্তরা ব্যাংক ফুলবাড়িয়া শাখার মাধ্যমে সাঈদ খোকনকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে এসব টাকা দিয়েছেন। অভিযোগ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে এসব টাকা গ্রহণ করেছেন সাঈদ খোকন। প্রতিটি চেকই ছিল ৫০ লাখ থেকে তিন কোটি টাকা পর্যন্ত। ফুলবাড়িয়া-২ মার্কেট মালিক সমিতির সভাপতি দেলোয়ার হোসেন বলেন, সে একেক সময় একেক ধরনের কথা বলে আমার থেকে চেক রাখছে। লোকজন দিয়ে আমার থেকে টাকা আদায় করেছে। মোট ৩৪ কোটি টাকা আদায় করা হয়েছে। এছাড়া ফুলবাড়িয়া ১ থেকে ৮ কোটি, সুন্দরবন সুপার মার্কেট থেকে ৩৬ কোটি, গুলিস্তান ট্রেড সেন্টার থেকে ২৪ কোটি ৭০ লাখ, ঢাকা ট্রেড সেন্টার থেকে ৬৪ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সাঈদ খোকনের বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে মন্তব্য করেন সাঈদ খোকন। ডিএনসিসির সাবেক মেয়র সাঈদ খোকন মুঠোফোনে বলেন, বিষয়টাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য ধাপাচাপা দেওয়ার জন্য আমার দিকে বিভিন্ন রকমের অভিযোগ আনা হচ্ছে। যা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যমূলক ও ভিত্তিহীন।

Author: admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *