‘মুরগি রিপন’ ও পুলিশের মধ্যকার ‘টম এন্ড জেরী’ খেলা!

সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল মোড়ের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে রিক্সার লেন দখল করে দোকান বসিয়ে প্রতিদিন পুলিশের নাম ভাঙিয়ে রিপন ওরফে ‘মুরগি রিপন’ নামে

এক চাঁদাবাজ তুলছে চাঁদা। প্রতিদিন দোকানগুলো থেকে পুলিশের নাম করে উত্তোলিত টাকা মাসে ১৭ থেকে ১৮ লাখ টাকা হওয়ায় অজ্ঞাত কারণে স্থায়ীভাবে রিক্সালেন

রিপনের কবল থেকে মুক্ত হচ্ছে না। সওজ এবং পুলিশ কখনো উচ্ছেদ করলেও পরক্ষণেরই আবার ঐ জায়গা দখল করে নেয় মুরগী রিপন ও তার সহযোগীরা। পুলিশ

উচ্ছেদ করার পর পরক্ষণেই ঐ রিক্সা লেন মুরগী রিপন বাহিনী দখল করায় একে পুলিশের সাথে মুরগী রিপন বাহিনীর টম এন্ড জেরীর নাটকের সাথে অবহিত করেছেন শিমরাইলের একাধিক মার্কেটের ব্যবসায়ীরা। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ফুটপাতের অবৈধ দোকানের মালিকদের পুলিশ তথা প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের ভয় দেখিয়ে চাঁদা আদায় করে রিপন ওরফে মুরগি রিপনের লোকজন। তারা আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরে রিপন ওরফে মুরগি রিপন নামের এক চাঁদাবাজ তার নিয়োজিত

চাঁদাবাজ জামাল, শাকিল, নাসির ও রুহুল আমিন দিয়ে পুলিশের নামে চাঁদা তুলছেন। তাদের পাশাপাশি এ ফুটপাতে একশ্রেণির প্রভাবশালী ব্যক্তি, এক জনপ্রতিনিধির সহযোগী ও স্থানীয় চাঁদাবাজরা এসব দোকানপাট থেকে দৈনিক ২০০ থেকে ৫০০ টাকা করে চাঁদা আদায় করে। দোকানপ্রতি ১ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত অগ্রিম নেয় সংঘবদ্ধ এ চাঁদাবাজ চক্র। রিক্সা লেনের ফুটপাথ থেকে চাঁদা উত্তোলনের ব্যাপারে চাঁদাবাজ ‘মুরগি রিপন’ জানান, তার উত্তোলিত চাঁদার পরিমাণ অর্ধলক্ষ টাকা থেকে কিছু বেশী। এ চাঁদার একটি অংশ পুলিশ, প্রশাসনের একাধিক ব্যক্তি ও স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিককে দিয়ে সন্তষ্ট করেন বলে জানান রিপন। এতে তার কয়েক লক্ষ টাকা খরচ হয় বল উল্লেখ করেন তিনি। বাকী টাকা এক মার্কেটের মালিক ও এক জনপ্রতিনিধি ও তার সহযোগীদের মধ্যে বিলি করে তার অল্প কিছু টাকা লাভ থাকে বলে মন্তব্য তার। এদিকে বুধবার (৩০ ডিসেম্বর) শিমরাইল মোড়ের ফুটপাতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৩ শতাধিক দোকান উচ্ছেদ করে। তবে পুলিশ স্থান ত্যাগ করার

কিছুক্ষণ পরই চাঁদাবাজ রিপন বাহিনী রিক্সা লেনের ঐ জায়গা তার দখলে নিয়ে নেয়। সে থেকে অদ্যবধি পূর্বের ন্যয় রিপন চালিয়ে যাচ্ছে তার চাঁদাবাজী। এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মসিউর রহমান বলেন, পুলিশের নাম ভাঙিয়ে চাঁদা আদার করা হয় জানতাম না। যারা পুলিশের নাম ভাঙিয়ে চাঁদা আদার করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। উল্লেখ্য, গত ২০ ডিসেম্বর সিদ্ধরগঞ্জ থানা পুলিশের সহায়তায় সওজের কর্মকর্তারা শিমরাইল মোড়ে গড়ে ওঠা এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা করে। উচ্ছেদের সময় সওজের কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, দখলকারীরা এসব দোকান গড়ে তুলে পরিবহন ও পথচারীদের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করছিল। সরকারি রাস্তা দখল করে অবৈধভাবে গড়ে তোলা এসব দোকান উচ্ছেদ করা হয়েছে। অবৈধ দোকান উচ্ছেদ না হওয়া পর্যন্ত এ অভিযান চলবে। কিন্তু সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পরের দিন ২১ ডিসেম্বর আবারো সরকারি রাস্তা (রিক্সা লেন) দখল করে দোকান বসানো হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিবারই সওজ ও পুলিশের উচ্ছেদের কিছুক্ষণ পর পুনরায় রিপনের হকার বাহিনী ফুটপাত দখল করে ব্যবসা শুরু করে।

Author: admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *