বাড়িতে খেতে দেয় না ছেলে, হাসপাতালেই থাকতে চান শতবর্ষী মা

শতবর্ষী বৃদ্ধা সখিনা বেগম। তেমন কোনো জ’টি’ল রো’গ-বা’লাই নাই। এরপরও তিনি হাসপাতালে ভর্তি হয়ে আছেন। তার

অ’পরা’ধ তিনি নাকি অনেক খাবার খান, তার প্রচুর ক্ষু’ধা! বুধবার দুপুরে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের

সিনিয়র স্টাফ নার্স মৃদুলা রাণী বিশ্বাস বলেন, হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দিলেও তিনি বাড়ি ফিরে যেতে চান না। তিনি নাকি তার ছেলে-পুত্রবধূর কাছে আপ’দ। তাই সেখানে ফিরে যেতে চান না। হাসপাতালে থাকলে অন্তত তিন বেলা পে’ট ভ’রে

খেতে পারেন, শা’ন্তিতে ঘুমাতে পারেন। কিন্তু আমরা তো কাউকে এভাবে বেশিদিন রাখতে পারি না। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বৃদ্ধা সখিনা বেগম ২০ জানুয়ারি শা’রী’রিক দু’র্বল’তা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। তাকে নিয়ে আসা মেয়ে লাইলি বেগমও একই সমস্যা দেখিয়ে মায়ের সঙ্গে ভর্তি হয়েছেন। বিশেষ কোনো অসুখ না থাকায় হাসপাতাল থেকে তাদের ছাড়পত্র দিলেও তারা বাড়ি যেতে চাচ্ছেন না। লাইলি বেগম বলেন, আমাদের বাড়িঘর নেই। ভাইদের সংসারেও অভাব। ভাই-ভাবিরা আমার বৃদ্ধা মাকে আ’প’দ মনে করে। ঠিকমতো খেতে-দেয় না, যত্ন করে না। তার অসু’স্থতার খবর পেয়ে আমি গিয়ে ছোট

ভাইয়ের বাড়ি থেকে মাকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছি। এখানে আমরা তিনবেলা খাবার পাচ্ছি। প্রচ’ণ্ড শীতের মধ্যে নিরাপদ আ’শ্রয়ে আছি। তাই এখান থেকে আমার মা যেতে চাচ্ছে না। এখন আমাদের জো’র করে যেতে বললে রাস্তায় আশ্রয় নেয়া ছাড়া উপায় নাই। বৃদ্ধা সখিনা বেগম বলেন, ছোট ছেলে রশিদের বউ আমারে মা’রে। চুল ধইরা টা’নে। আমি আর ওহানে যামু না। ওরা কেউই আমারে দেখবার পারে না। অ’ভিযো’গ অ’স্বীকার করে বৃদ্ধার ছোট ছেলে আব্দুর রশিদ বলেন, আমি ফরিদপুরে একটি কারখানায় কাজ করি। বাড়িতে মায়ের জন্য হাইকমো’ড স্থাপনসহ সব ধরনের ভালো ব্যবস্থা করেছি। আমি কাজের জন্য ঠিকমতো বাড়িতে থাকতে পারি না। আমার স্ত্রী’ই মায়ের য’ত্ন করে। হয়তো কখনো কখনো একটু বি’র’ক্ত হলেও হতে পারে; কিন্তু মাকে মা’রা’র কথা আমি বিশ্বাস করি না। আমি দুই-একদিনের মধ্যে ছুটিতে এসে মাকে বাড়ি নিয়ে যাবো। হাসপাতালের আরএমও ডা. নিতাই কুমার বলেন, আমাদের একটা নিয়মের মধ্য দিয়ে চলতে হয়। অসুস্থ না থাকলে আমরা ওই মা-মেয়েকে বেশিদিন হাসপাতালে রাখতে পারি না। আপাতত আমরা তাদের মা’ন’বিক দৃ’ষ্টিতে দেখছি। কিন্তু এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন।

Author: admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *