‘হিজাব দিবসের’ ব্যানার সরিয়ে ফেলার প্রতিবাদ করায় ছাত্রলীগের হামলা

বিশ্ব হিজাব দিবস উপলক্ষে ইশা ছাত্র আন্দোলন ঢাবি শাখার টানানো ব্যানার ভাঙচুর করেছে সার্জেন্ট জহুরুল হল ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। ব্যানার ভাঙচুর করার প্রতিবাদ

জানাতে গেলে উগ্র ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হন ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা। সোমবার (১ ফেব্রুয়ারি) বেলা তিনটার দিকে টিএসসি চত্বরে

এ ঘটানা ঘটে। হামলার সময় দুটি স্মার্ট মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়েছে। ছাত্রলীগের হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি মাহমুদুল হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক খাইরুল আহসান মারজান, সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক আবু বকর। ইশা ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এম এম শুয়াইব হামলার

কথা জানিয়ে ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, বিনা উস্কানিতে আমাদের ওপর হামলার প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আদর্শকে হামলা দিয়ে নয় আদর্শ দিয়ে মোকাবিলা করুন। সন্ত্রাসী দিয়ে রাজনীতি হয় না বরং চৌকিদারী হয়। চৌকিদারী বন্ধ করে আসুন শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের রাজনীতি করি। এ হামলার বেশকিছু ছবি ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। সংগঠনের নেতাকর্মীরাসহ অনেকেই এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। এর আগে, বিশ্ব হিজাব দিবস উপলক্ষে ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের হিজাবের অধিকার রক্ষায় ‘৭ দফা দাবি সম্বলিত কয়েকটি ব্যানার’ সরিয়ে ফেলেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ছাত্র মিলনায়তন (টিএসসি) কর্তৃপক্ষ। বিশ্ব হিজাব দিবস পালন উপলক্ষে ইশা ছাত্র আন্দোলন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পয়েন্ট ব্যানারগুলো বসান। বিশেষ করে রাজু ভাস্কর্যসহ টিএসসি ও কয়েকটি জায়গায় ব্যানার বসান তারা। সকাল থেকে ব্যানারগুলো সেখানে থাকলেও কর্তৃপক্ষ দুপুর সাড়ে এগারোটার দিকে ব্যানারগুলো সরিয়ে ফেলে। ব্যানার সরিয়ে ফেলার বিষয়টি

জানিয়ে ইশা ছাত্র আন্দোলন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি মাহমুদুল হাসান বলেন – ‘টিএসসি থেকে বের করে দিলো আমাদের ব্যানার। রাজুতেও (রাজু ভাস্কর্য) নাকি সমস্যা! সমস্যা কি? তাদের কি ক্ষতি করে এই ব্যানারগুলো? যেখানে ছাত্রলীগের কয়েকটা ব্যানার ঝুলছে! শুধু কি একটা সমস্যা যে আমাদের নামের সাথে ইসলামী যুক্ত?’ তবে এ বিষয়ে টিএসসির পরিচালক আলী আকবর বলেছেন – “আজ পহেলা ফেব্রুয়ারি ভাষার মাস শুরু হয়েছে এবং টিএসসির সামনে ভাষার মাস নিয়ে কিছু প্রোগ্রাম রয়েছে। তবে ব্যানার অপসারন করা হয়নি বরং সামনে রাস্তায় নিয়ে রাখা হয়েছে যাতে বেশি মানুষ দেখতে পারে। এবং টিএসটি গেট থেকে ব্যানার সরানোর কাজও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর করেছেন।” দিবসটি উপলক্ষে তারা বলেন, হিজাব নারীর স্বাধীন ইচ্ছা ও মৌলিক অধিকারের। কিন্তু বিশ্বের বিভিন্ন দেশে হিজাবের উপর অযাচিত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে নারীর পোষাক পরিধানের ব্যাক্তিগত ও ধর্মীয় স্বাধীনতার উপর হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। তাছাড়া বাংলাদেশ সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে হিজাব পরিহিতা নারীরা নানাভাবে বৈষম্যমূলক আচরণ ও অসৌজন্যমূলক ব্যবহারের শিকার হচ্ছে। যা অন্যায়ই শুধু নয়, মানবাধিকারেরও মারাত্মক লংঘন। ২০১৩ সালের পহেলা ফেব্রুয়ারী থেকে এ দিবসটি উদযাপিত হয়ে আসছে। নানা প্রতিকূলতা ও বিতর্কের মোকাবিলায় বাংলাদেশী বাংশোদ্ভূত নিউইয়র্ক বাসিন্দা নাজমা খান প্রথম বিশ্ব হিজাব দিবস উদযাপনের ডাক দিয়ে বিশ্বের মুসলিম- অমুসলিম সকল নারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। যা বর্তমানে প্রতিবছর ১৯০টিরও বেশী দেশের মুসলিম-অমুসলিম নারীরা ঘটা করে পালন করছে। তারা আরও বলেন, হিজাবের প্রতি বৈষম্য বন্ধে সামাজিক সচেতনা ও আইনগত পদক্ষেপের বিকল্প নেই। তাই সরকারি-বেসরকারি সকল ক্ষেত্রে নারীদের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষায় সকলকেই এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

Author: admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *