ভালোবাসার ঢেউ লেগেছে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে

বসন্তের রঙে ভালোবাসা যেন রঙিন হয়ে ওঠেছে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত। পারস্পারিক ভালোবাসায় অপরূপ হয়ে উত্থাল ঢেউয়ের সঙ্গেও যেন চলছে ভালবাসার মিতালী।

পর্যটকদের পাশাপাশি সমুদ্র সৈকতে স্থানীয়রাও মেতেছেন ফাগুন আর ভালোবাসার আনন্দে। প্রিয়জনের সাথে প্রিয় কিছু মুহূর্ত কাটাতে সৈকতে ভিড় করেছে ভ্রমণ পিপাসুরা। এই

বিশেষ দিন হিসেবে ভালবাসা দিবসে পর্যটকের সংখ্যা বাড়ায় দারুণ খুশি পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। আর পর্যটকদের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে টুরিস্ট পুলিশ। পর্যটন সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্যসূত্রে জানা যায়, বসন্ত আর ভালোবাসা দিবসকে কেন্দ্র করে সাগরের নীল জলরাশি ও প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য

কক্সবাজারে বেড়াতে এসেছেন প্রায় লক্ষাধিক পর্যটক। কেউ প্রিয়জনের সঙ্গে, কেউ বাবা-মা আর কেউবা প্রিয় বন্ধুর সঙ্গে ছুটে এসেছেন বিশ্বের দীর্ঘতম কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে। সৈকতের বালিয়াড়িতে বসে সময় কাটানো, সমুদ্র স্নান, বিকেলে প্রিয়জনের পাশে দাঁড়িয়ে সুর্যাস্ত অবলোকনসহ প্রিয়সব মুহুরর্ত যেন রঙিন হয়ে উঠেছে ভালোবাসা আর বাসন্তীর রঙে। তবে ভালবাসা দিবসটিকে ঘীরে স্থানীয় সচেতন যুবক শাহনেওয়াজ জিল্লু বলছেন ভিন্ন কথা। তার মতে, কক্সবাজারে ভালোবাসা দিবসের নামে বহিরাগত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভিত্তিক এনজিওকর্মীরা বেআইনি যৌনতায় তৎপর রয়েছে। স্থানীয়দের মাঝে এই দিবসটিকে ঘিরে তেমন সাড়া লক্ষ্য করা না গেলেও প্রভাব ফেলেছে সামাজিক জীবনাচরণে। পিতামাতা বা পারিবারিক সংস্পর্শ থেকে দূরে থাকায় এনজিওকর্মীরা এমন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে স্থানীয় উঠতি বয়সের যুবারা পারিবারিক সংস্পর্শে

থাকলেও এনজিওকর্মীদের এমন বেলেল্লাপনায় ইতস্তত বোধ করছে। একসঙ্গে ভালবাসার আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়া। সুযোগ বুঝে হাত ধরে সামনে এগিয়ে যাওয়া। আর সেটি যদি হয় এই সমুদ্র সৈকত! তাহলে তো আর কথাই নেই। সমুদ্র সৈকতের বালুকাবেলায় বসে এভাবেই অনুভূতি ব্যক্ত করলেন কুমিল্লাহ থেকে বেড়াতে আসা বেসরকারি চাকুরে জাহিদ। তারই সহকর্মী আফজাল তালুকদার বললেন, একটু ভিন্নভাবে। প্রতি বছর শীত মৌসুমে সমুদ্র সৈকতে প্রায় বন্ধু-বান্ধবরা বেড়াতে আসেন। কিন্তু কর্ম ব্যস্ততার কারণে সৈকতে খুব একটা আসা হয় না। তাই এ ধরনের বিশেষ দিনগুলোতে অন্তত সৈকতের নরম বালু আর লোনাজলে পা ভেজানোর জন্য চলে আসি। চারিদিকে যেন ভালোবাসার রঙ লেগে আছে। আসলেই ভাল লাগছে। ঢাকার মতিঝিল থেকে আসা মাইমুনা রহমান বলেন, এমনিতেই আজ ভালোবাসা দিবস। কিন্তু আমাদের জন্য এই দিনটি আরো স্পেশাল। কারণ তিনবছর আগে এইদিনেই আমাদের বিয়ে হয়েছিল। তাই বিশেষ দিনে প্রিয়জনের সঙ্গে বিশেষ একটি জায়গায় ঘুরে বেড়ানো, সময় কাটানো আসলেই আমার কাছে অন্য রকম অনুভূতি। সত্যিই ভাল লাগছে। ভালোবাসা দিবসে ভালোবাসার মানুষকে নিয়ে সময় কাটানো, আড্ডা দেওয়া, ঘুরে বেড়ানো আসলেই বিষয়টি খুবই আনন্দের। আর জায়গাটি যদি হয় এই সমুদ্র সৈকতের মতো সুন্দর, তাহলে বুঝতেই পারছেন অনুভূতিটা কেমন হবে এভাবেই বলছিলেন ঢাকার সাভার থেকে পর্যটক আব্দুল্লাহ আল মামুন। এদিকে বিশ্ব ভালোবাসা দিবসকে ঘিরে কক্সবাজারের প্রায় চারশো হোটেল-মোটেল ও গেস্ট হাউসে পড়েছে বাড়তি চাপ। সব হোটেলেই ৮০ ভাগেরও বেশি রুম আগে থেকেই বুকিং হয়ে গেছে। আবার কোনো কোনো হোটেলে বিশেষ এই দিন উপলক্ষে ৫০ শতাংশ ছাড়সহ পর্যটকদের জন্য রাখা হয়েছে নানা আয়োজন। কক্সবাজার কলাতলী রোডের হোটেল সী কিং এর জেনারেল ম্যানেজার মিজান জানান, এইদিনে পর্যটকদের জন্য ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি বাড়তি সেবা নিশ্চিত করার বিষয়টিও আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। পাঁচ তারকা মানের হোটেল সী উত্তরার জেনারেল ম্যানেজার ওসমান রশিদ জানান, বিশ্ব ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে এবারে বেশ ভালোই সাড়া পড়েছে। পর্যটকদের বাড়তি সেবা দিতে আমাদেরও বিভিন্ন প্রস্তুতি ছিল। তবে করোনার কারনে এবারে বিশেষ কোনো কনসার্ট বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আযোজন নেই। তবুও আমরা আশা করছি ভ্রমণের আনন্দদায়ক এবং ভালো স্মৃতি নিয়েই পর্য়টকেরা ফিরতে পারবেন। কক্সবাজার টুরিস্ট পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) জিল্লুর রহমান বলেন, সমুদ্র সৈকতে পর্যটকদের নিরাপত্তা দিতে সার্বক্ষণিক টুরিস্ট পুলিশ কাজ করছে। এছাড়া বিশ্ব ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে এখানে লাখো পর্যটকের সমাগম হয়েছে। এ অবস্থায় পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে টুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে লাবনী, সুগন্ধা বিচসহ আশপাশের বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। কক্সবাজার জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম বলেন, এ বিশেষ দিনটিকে ঘিরে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে শহরের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এছাড়াও সৈকতসহ আশপাশের এলাকায় পর্যটকদের আগমন ও স্থানীয়দের পদচারণা নিরাপদ করতে পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকধারী পুলিশ কাজ করছে।

Author: admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *