দুই স্বামীর সঙ্গেই শারীরিক সম্পর্ক ছিলো মিন্নির

সামাজিক যোগাযোগা মাধ্যম ফেসবুকে ভাই’রাল হয়ে যাওয়া সেই ভিডিওটির কথা নিশ্চই মনে আছে। যেখানে দেখা গিয়েছিল, স্বামী রিফাত শরীফকে স’ন্ত্রাসীরা যখন কো’পাচ্ছিল তখন স্বামীকে বাঁ’চাতে প্রা’ণপণ চেষ্টা

করেছিলেন স্ত্রী’ আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি। তিনি ছিলেন ওই মা’মলার এক নম্বর সাক্ষী। প্রকাশ্য দিবালোকে হ’ত্যাকা’ন্ডের এই ঘটনায় নানা নাট’কিয়তার পর আ’সামি হয়েছেন মিন্নিও। দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করা এই

হ’ত্যাকা’ণ্ডের পর রাজনৈতিক ইন্ধন, মা’দকসহ নানা বিষয় সামনে আসলেও পরবর্তীতে নানা তথ্য বেরিয়ে আসে। ওই মা’মলার চার্জশিটে উঠে এসেছে ঘটনার চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। ঘটনা হার মানিয়েছে সিনেমা’র
কাহিনিকেও। বেরিসে আসলো ভিন্ন তথ্য। আর কেউ নয়, যাকে ঘটনার দিন স্বামীকে বাঁ’চাতে প্রা’ণপণ চেষ্টা করতে দেখা গিয়েছিল সেই মিন্নিই রিফাত শরীফ হ’ত্যার মূল হোতা। ২০১৯ সালের ২৬ জুন বরগুনা সরকারি

কলেজের সামনে রিফাত শরীফকে হ’ত্যার ঘটনা ঘটে। তার পরদিন ২৬ জুন কটি হ’ত্যা মা’মলা করেন রিফাত শরীফের বাবা। এ মা’মলায় মিন্নিকে এক নম্বর সাক্ষী করেন। মা’মলা’টি ত’দন্ত করেন বরগুনা সদর থা’নার পরিদর্শক (ত’দন্ত) মো. হু’মায়ুন কবির। প্রায় দুই মাস ত’দন্ত শেষে ১ সেপ্টেম্বর তিনি জে’লা ম্যাজিস্ট্রেট আ’দালতে চার্জশিট দাখিল করেন। এই চার্জশিটে হ’ত্যাকা’ণ্ড স’ম্পর্কে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য বেরিয়ে আসে।

চার্জশিটের ২০ ও ২৭ নম্বর পৃষ্ঠায় বলা হয়, গ্রে'’প্তার হওয়া মিন্নির বি’রুদ্ধে অ’ভিযোগ ত’দন্তকালে দেখা যায়, রিফাত শরীফ বরগুনা থা’না এলাকায় ডিশলাইনের ব্যবসা করতেন। ১ নম্বর আ’সামি মো. সাব্বির আহম্মেদ নয়ন ওরফে নয়নব’ন্ড ও রিফাত শরীফ একসঙ্গে বরগুনা জিলা স্কুলে পড়ালেখা করেছেন। একসঙ্গে পড়ালেখার সুবাদে তাঁদের উভ’য়ের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ স’ম্পর্ক ছিল। ২০১৭ সালে রিফাতের সঙ্গে আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির প্রে’ম হয়। পরে রিফাতের মাধ্যমে তাঁর বন্ধু নয়নব’ন্ডের সঙ্গে মিন্নির পরিচয় হয়। ২০১৮ সালে রিফাত শরীফ মোটরসাইকেল দুর্ঘ’টনায় আ’হত হয়ে দেড় মাস চিকিৎসাধীন ছিলেন। এ সময়ে নয়নব’ন্ডের সঙ্গে মিন্নির নতুন প্রে’মের

স’ম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০১৮ সালের ১৫ অক্টোবর নয়নব’ন্ডের বাড়িতে তাঁর সঙ্গে মিন্নির গোপনে বিয়ে হয়। সাক্ষী রায়হানুল ইস’লামের মাধ্যমে কাজি আনিচুর রহমান পাঁচ লাখ টাকার দেনমোহরে তাঁদের বিয়ে সম্পাদন করেন। বিয়েতে নয়নব’ন্ডের পক্ষে সাক্ষী ছিলেন আ’সামি রাকিবুল হাসনাত ফরাজী এবং মিন্নির পক্ষে সাক্ষী ছিলেন প্রতিবেশী ও বন্ধু মো. সাইফুল ইস’লাম মুন্না। মিন্নি বিয়ের বিষয়টি গো’পন রাখেন এবং রিফাতের সঙ্গে পুরোনো প্রে’মের স’ম্পর্ক অব্যাহত রাখেন। কিছুদিন পর আগের একটি মা’মলায় নয়নব’ন্ডকে কারাগারে পাঠান আ’দালত। তখন মিন্নি নয়নব’ন্ডকে তালাক না দিয়েই ২০১৯ সালের ২৬ এপ্রিল রিফাতের সঙ্গে পুনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়, নয়নব’ন্ড কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেলে মিন্নি অ’ত্যন্ত চতুরভাবে দুই স্বামীর সঙ্গেই স’ম্পর্ক বজায় রাখতেন। তিনি নয়নব’ন্ডের বাড়িতে আসা-যাওয়া করতেন এবং তার সঙ্গে শারীরিক স’ম্পর্ক বজায় রাখতেন। একপর্যায়ে রিফাত বিষয়টি জেনে যান এবং এ নিয়ে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য ও ঝগড়াঝাঁটি শুরু হয়। তখন মিন্নি রিফাতের কাছে বিবাহ বিচ্ছেদ (ডিভোর্স) চান এবং নয়নব’ন্ডের কাছে

ফিরে যেতে চান। চার্জশিটে আরো বলা হয়, রিফাতের সঙ্গে বিয়ের আগে ২০১৯ সালের মা’র্চ মাসে নয়নব’ন্ড ইউটিডিসি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে তার জন্ম’দিন পালন করেন। ওই জন্ম’দিনের অনুষ্ঠানে প্রধান অ’তিথি ছিলেন মিন্নি। সেই অনুষ্ঠানের ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণ করেছিলেন নয়নব’ন্ডের বন্ধু হেলাল শিকদার। এ ভিডিওটি তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেন। এটি দেখে রিফাত ২৪ জুন হেলাল শিকদারকে ডেকে নিয়ে ভিডিওটি স’ম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং তার মোবাইল ফোনটি নিয়ে যান। পরে হেলাল বিষয়টি নয়নব’ন্ডকে জানান। নয়নব’ন্ড বিষয়টি রিফাত ফরাজীকে জানান। রিফাত ফরাজী মিন্নির স্বামী রিফাত শরীফের কাছে মোবাইল ফোনটি ফেরত চাইলে রিফাত তাঁকে গালাগাল করেন। বিষয়টি মিন্নিকে জানান নয়নব’ন্ড। এ নিয়ে মিন্নির সঙ্গে রিফাত শরীফের ঝগড়া হয় এবং একপর্যায়ে রিফাত শরীফ মিন্নির তলপেটে লাথি মা’রেন। এতে ক্ষুব্ধ মিন্নি প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে ফোনে ঘটনাটি নয়নব’ন্ডকে জানান এবং পরদিন ২৫ জুন কলেজে যাওয়ার নাম করে নয়নব’ন্ডের বাড়িতে যান। সেখানে মিন্নি ‘পথের কাঁ’টা’ দূর করার জন্য নয়নব’ন্ডের সঙ্গে রিফাত

শরীফকে হ’ত্যার পরিকল্পনা করেন। নয়নব’ন্ড মিন্নির কাছ থেকে প্রস্তাব পেয়ে ওই দিন বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের শহীদ মিনারে আ’সামিদের সঙ্গে বৈঠক করে রিফাত শরীফকে হ’ত্যার পরিকল্পনা করেন। একই সঙ্গে আ’সামিদের সকাল ৯টায় কলেজের সামনে উপস্থিত থাকতে বলা হয়। হ’ত্যাকা’ণ্ডের বর্ণনা দিয়ে চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়, ২৬ জুন সকাল বেলা মিন্নি কলেজের সায়েন্স বিল্ডিংয়ের সামনে গিয়ে আ’সামি রিফাত ফরাজী, রাব্বি আকন ও রিফাত হাওলাদারের সঙ্গে দেখা করেন। আ’সামিদের খালি হাতে দেখে মিন্নি বিস্ময় প্রকাশ করেন এবং রিফাত ফরাজীর কাছে জানতে চান, তাঁরা খালি হাতে কেন এবং রিফাত শরীফকে কী’ দিয়ে মা’রবে? ওই সময় মিন্নিকে নিতে কলেজের গেটে আসেন রিফাত শরীফ। তখন মিন্নি রিফাত শরীফের সঙ্গে কলেজের গেটের সামনে রাখা মোটরসাইকেলের কাছে যান। কিন্তু পূর্বপরিকল্পনামাফিক গেটের আশপাশে থাকা আ’সামিদের সুযোগ করে দেওয়ার উদ্দেশ্যে এবং সময়ক্ষেপণ করার জন্য মিন্নি পুনরায় কলেজে ফিরে যান। এ সময় রিফাত শরীফ মিন্নিকে ফেরাতে পেছনে পেছনে কলেজের দিকে যান। তখন রিফাত শরীফের ওপর হা’মলা করার জন্য আ’সামিদের ইশারা দেন মিন্নি। আ’সামি রিফাত ফরাজীসহ অন্যরা মিন্নির স্বামীকে জা’পটে ধরে মা’রতে মা’রতে টেনেহিঁচড়ে ক্যালিক্স একাডেমির সামনে নিয়ে যেতে থাকেন। এ সময় মিন্নি স্বাভাবিকভাবে তাঁদের পেছনে হেঁটে যান। চার্জশিটে আরো উল্লেখ করা হয়, আ’সামি রিফাত ফরাজী দৌড়ে গিয়ে পূর্ব পাশের দেয়ালসংলগ্ন গলির মুখে জনৈক নুরুল হকের বারান্দার টিনের চালের ওপরে রাখা ব্যাগের মধ্য থেকে দুই হাতে দুটি বগি দা নিয়ে আসেন। একই সময় আ’সামি টিকট’ক হৃদয় ও রাকিবুল হাসান রিফাত হাওলাদার দৌড়ে গিয়ে দুটি লা’ঠি নিয়ে আসেন। আ’সামি রিফাত ফরাজী একটি দা রাস্তার ওপরে রেখে অন্যটি দিয়ে রিফাত শরীফকে এলোপাতাড়ি কো’পাতে থাকেন। এ সময় আ’সামি নয়নব’ন্ড আ’সামি রিফাত ফরাজীর হাত থেকে বগি দা নিয়ে রিফাত শরীফকে এলোপাতাড়ি কো’পাতে থাকেন। আ’সামি রিফাত ফরাজী তখন রাস্তার ওপরে রাখা অন্য বগি দাটি নিয়ে পুনরায় রিফাত শরীফকে এলোপাতাড়ি কো’পাতে থাকেন। আ’সামি রিশান ফরাজী তখন রিফাত শরীফকে জা’পটে ধরে রাখেন। আ’সামি টিকট’ক হৃদয় ও রাকিবুল হাসান রিফাত হাওলাদার লা’ঠি হাতে হ’ত্যাকা’ণ্ড নির্বিঘ্ন করার জন্য পাহারা দেন। ওই সময় আ’সামি মোহাইমিনুল ইস’লাম, সিফাত, মো. নাজমুল হাসান, প্রিন্স মোল্লা, আবু আবদুল্লাহ রায়হান, আল কাইয়ুম রাব্বি আকন, নাঈম, অলি উল্লাহ অলি, রাকিবুল হাসান নিয়ামত, জয় চন্দ্র সরকার ওরফে চন্দন, মো. হাসান, মা’রুফ বিল্লাহ ওরফে মহিবুল্লাহ, মো. মু’সা, মা’রুফ মল্লিক ও রাতুল সিকদার জয় পাহারা দেন। আ’সামি মিন্নি শুরুতে স্বাভাবিক থাকলেও পরে দায় এড়ানোর জন্য কৌশলে রিফাতকে বাঁ’চানোর অ’ভিনয় করেন এবং শুধু নয়নব’ন্ডকে নিবৃত করার চেষ্টা করেন। এরপর লোকজন জড়ো হলে তারা পালিয়ে যান। চার্জশিটে বলা হয়, মিন্নি ঘটনার দায় এড়াতে যেহেতু স্বামীকে বাঁ’চানোর অ’ভিনয় করেন, এ কারণে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী আ’সামিরা মিন্নিকে আ’ঘাত করেননি। এ সময় র’ক্তাক্ত রিফাত শরীফ একাই রিকশায় করে হাসপাতা’লের উদ্দেশে রওনা হলেও মিন্নিকে তখন রাস্তায় পড়ে থাকা তাঁর ভ্যানিটি ব্যাগ ও জুতা কুড়াতে ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়। পরে মিন্নি রিকশায় করে রিফাত শরীফের সঙ্গে বরগুনা জেনারেল হাসপাতা’লে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর মুমূর্ষু রিফাত শরীফকে বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতা’লে স্থা’নান্তর করতে বলেন চিকিৎসকেরা। তখন মিন্নি তাঁর জামাকাপড় র’ক্তে ভেজা, তাই বরিশাল যাওয়া সম্ভব নয়—এই অজুহাত দেখিয়ে নিজের বাবার বাড়িতে চলে যান এবং হ’ত্যাকা’ণ্ডের প্রধান আ’সামি নয়নব’ন্ডকে মোবাইল ফোনে দ্রুত নিরাপদ স্থানে পালিয়ে যাওয়ার পরাম’র্শ দেন।

Author: admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *