করোনা আমাকে একরকম বন্দি করে দিয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা- বীমা খাতকে জনপ্রিয় করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, বীমাকে জনপ্রিয়, এর প্রসার এবং এ নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে বীমা সংশ্লিষ্ট

সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে একযোগে কাজ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি নিজে গিয়ে সম্মাননা দিতে পারলে ভালো লাগত। কিন্তু করোনা আমাকে একরকম

বন্দি করে দিয়েছে। সমস্যা কাটিয়ে উঠতে আমরা টিকা নিয়ে এসেছি, দেওয়াও হচ্ছে। টিকা নেওয়ার পরও স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে চলতে হবে। হাত ধোয়া, মাস্ক পরা, এগুলোর মাধ্যমে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে হবে।’ সোমবার (১ মার্চ) সকালে ‘জাতীয় বিমা দিবস’ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে যুক্ত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বিমাখাতে আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারি এবং তার ওপর নির্ভর

করতে পারি। সেই দিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দেবেন। যাতে বিমার পরিধি বৃদ্ধি পায় এবং মানুষের একটা সহায়ক শক্তি হিসেবে বিমা কাজ করে। সত্যি কথা বলতে কি এখন তো আমাদের ডিজিটাল বাংলাদেশ হয়েছে।’ স্বাস্থ্যবিমা চালু করা আরও একান্তভাবে প্রয়োজন বলেও মনে করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘যেটা নিয়ে এখন আমাদের দেশের মানুষ সচেতন না। তবে করোনাভাইরাসের কারণে মানুষের মধ্যে সেই সচেতনতা সৃষ্টি হবে। যার জন্য আমাদের বিমা উন্নয়ন এবং নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ

গ্রহণ করেছেন। তা আরও কার্যকর করার দরকার। যাতে বিমার পরিধি বৃদ্ধি পায় এবং মানুষের একটা সহায়ক শক্তি হিসেবে এটা কাজ করে।’ বাংলাদেশ সরকার বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ, জীবন বিমা করপোরেশন, সাধারণ বিমা করপোরেশন ইন্স্যুরেন্স একাডেমির সক্ষমতা বৃদ্ধি ও অটোমেশনের জন্য ৬৩২ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্পের গ্রহণ করেছে এবং তার কাজ চলমান রয়েছে বলেও অবহিত করেন প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শিক্ষা বীমা চালু করা হয়েছে। বার্ষিক ৮৫ টাকা দিয়ে একটা পলিসি করতে পারবে। এক্ষেত্রে নতুন বিবাহিত কাপল বীমা করলে সন্তান শিক্ষা সমাপনী পর্যন্ত আর কোনো সমস্যায় পড়তে হবে না, এরকম ব্যবস্থা করতে হবে। বার্ষিক ২৮৫ টাকা দিয়ে একজন খেলোয়াড়ও নিজের জীবন সুরক্ষিত রাখতে পারবে। প্রবাসীদের জন্যও বীমার সুযোগ রাখা হয়েছে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ গড়ার কাজ করে গেছেন। শূন্য থেকে শুরু করেন। অর্থনৈতিক উন্নতিসহ সব জায়গায় হাত দিয়েছেন। একটি রাষ্ট্র গঠনে সব কাজই তিনি করে গেছেন। উন্নয়নের এই পথেই আসে আঘাত। তাকে হত্যা করা হয়। শুধু তাকে নয় পুরো পরিবারকে। এতে পরিবার শুধু নয় বাঙালি জাতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে৷ জাতি তাদের সম্ভাবনাকে হারিয়েছে।’

Author: admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *