নারীরাই ছিল তাদের প্রধান টার্গেট!

ব্যস্ত এলাকায় নারীদের টার্গেট করে কৃত্রিম জটলা তৈরি করেন তারা। এরপর পরিকল্পিতভাবে পথচারী নারীদের সঙ্গে একজন বাকবিতন্ডায় জড়ায় আর একজন গলার চেইন ও

পার্স থেকে টাকা পয়সা-মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এমন ছিনতাইকারী চক্রের ৬ নারীসহ ৭ সদস্যকে আটক করেছে ডিবি পুলিশ। এরা বিভিন্ন এলাকা থেকে এসে

ময়মনসিংহ নগরীতে বাসা ভাড়া নিয়ে চুরি-ছিনতাই করতো। ছিনতাইয়ের শিকার নারী বলেন, অগ্নিবীনা ট্রেনে যাওয়ার পথে আমার মেয়ের গলা থেকে একজন চেইনটা নিয়ে নেয়। তারপর আমি বুঝতে পারি যে চেইনটা নিয়েছে। এভাবেই ট্রেনে ওঠার সময় মেয়ের গলার চেইন ছিনতাইয়ের বর্ণনা দিচ্ছিলেন কলেজ শিক্ষিকার মা। চেইন নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় চক্রের এক নারী সদস্যকে ধরে ফেলেন তিনি। কিন্তু আগেই চক্রের অন্য এক সদস্য চেইনটি নিয়ে সটকে পড়ে। পুলিশের সহায়তায় আটক নারীকে দিয়ে ফোন করিয়ে সটকে পড়া নারীকে রেলস্টেশন এলাকা এনে আটক করে পুলিশ। তার কাছ থেকে ছিনতাই করা চেইনটিও উদ্ধার করা হয়। আটক ছিনতাইকারী চক্রের এক নারী

সদস্যরা বলেন, রেল স্টেশন থেকে একটা চেইন নিছে এরপর মামা আমাকে দিয়ে বলেছে যে যা গা আমি আইতাছি। অপর এক সদস্য বলেন, মামা এইসব কাজ করতো আমরা জানতাম। অনেকদিন ধরে করেনা দেইখা ভাবছি মামা ভালো হয়ে গেছে। এভাবে বাচ্চার গলার চেইন আনছে লক্ষ্য করি নাই আমি ভিতরে উঠে গেছি। পরে আমারেই ধরছে। এদিকে সোমবার সকালে নগরীর রঘুরামপুর এলাকা থেকে ৪ নারীসহ চক্রের আরও ৫ সদস্যকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ১০টা স্বর্ণের চেইন এবং গলা থেকে চেইন কাটার বিশেষ ধরনের কেঁচি। ব্যস্ততম স্থান ও হাসপাতাল এলাকায় জটলা সৃষ্টি করে অভিনব কায়দায় নারীদের গলার চেইন ও টাকা পয়সা ছিনতাই করতো তারা। চক্রের অন্য সদস্যদেরও গ্রে'ফতারে অভিযান চলছে বলে জানায় পুলিশ। ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপার আহমার উজ্জামান বলেন, মহিলারা সাধারণত এটা করতো। মহিলা হওয়ার কারণে যে সুবিধাটা হয় যে কেউ সন্দেহ করে না। সন্ধার সময় বা বিভিন্ন সময় তারা যাত্রী বেশে সিএনজিতে ওঠে হয়রানি ও ছিনতাই করতো। রঘুরামপুর থেকে আটক ৫ জনের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর এবং রেলস্টেশন থেকে আটক দুই নারীর বাড়ি ময়মনসিংহে নান্দাইল ও গৌরীপুর।

Author: admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *