রহমতে ভরপুর বৃষ্টির প্রতিটি ফোঁটা

আজ রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বছরের প্রথম বৃষ্টি বর্ষিত হয়েছে, আলহামদুলিল্লাহ। রাজধানীর পথ-ঘাট যেন আজ নতুন জীবন ফিরে পেয়েছে। হঠাৎ এই

বৃষ্টি রাজধানীবাসীকে স্বস্তির পরশ বুলিয়ে দিলো। আসলে আল্লাহপাকের ইচ্ছে হলে তিনি তার ধরণিকে মৃত থেকে জীবন্ত করেন এবং বায়ুকে করেন নির্মল। বৃষ্টির প্রতিটি

ফোঁটা বর্ষিত হয় আল্লাহ তাআলার রহমতের ধারা হয়ে। বৃষ্টি হলে প্রভুকে বেশি বেশি স্মরণের শিক্ষাও দিয়েছেন বিশ্বনবী (সা.)। বিশ্বনবীর (সা.) জীবন থেকে জানতে পারি, তিনি বৃষ্টিকে খুব ভালোভাবেই উপভোগ করতেন। প্রখ্যাত সাহাবি হজরত আনাস (রা.) বলেন, ‘আমরা মহানবীর (সা.) সঙ্গে থাকাকালে একবার বৃষ্টি নামল। রাসুলুল্লাহ (সা.) তখন তার কাপড় প্রসারিত করলেন যাতে পানি তাকে স্পর্শ করতে পারে। আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! আপনি কেন এমন করলেন? তিনি

বললেন, কারণ বৃষ্টি তার মহান রবের কাছ থেকে এই মাত্রই এসেছে।’ (মুসলিম) হাদিসে এসেছে হজরত মা আয়েশা (রা.) বলেন, মহানবী (সা.) বৃষ্টি নামতে দেখলে বলতেন, ‘আল্লাহুম্মা সাইয়িবান নাফিয়া’ অর্থাৎ হে আল্লাহ, উপকারী বৃষ্টি আমাদের ওপর বর্ষণ করুন।’ আবু দাউদের বর্ণনায় রয়েছে, মহানবী (সা.) বলেছেন, বৃষ্টির সময় করা দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না।’ আমরা মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করতে পারি যে, হে আল্লাহ! তোমার রহমতের বৃষ্টির মাধ্যমে আমাদের দেশ থেকে করোনাভাইরাসকে ধুয়ে মুছে পরিস্কার করে দাও, বিশুদ্ধ করে দাও বাংলার আকাশ-বাতাস, গোটা বিশ্বকে প্রশান্তিময় করে তুলো। পবিত্র কোরআনে আল্লাহপাক বলেন, ‘আর আল্লাহ আকাশ থেকে পানি অবতীর্ণ করেছেন এবং পৃথিবীকে এর মৃত্যুর পর এর মাধ্যমে জীবিত করে তুলেছেন। নিশ্চয় এতে সেইসব লোকের জন্য রয়েছে এক বড় নিদর্শন যারা কথা শুনে’ (সুরা নাহল: আয়াত ৬৫)। রৌদ্রজ্জ্বল তাপদাহে তপ্ত ধরণী যখন অতিষ্ট ঠিক তখনই আল্লাহপাকের বারিধারায় হয়ে উঠে সুজলা-সুফলা। যেভাবে পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘তুমি পৃথিবীকে নিষ্প্রাণ দেখতে পাও। এরপর আমি যখন এর ওপর পানি বর্ষণ করি তখন তা সক্রিয় হয়ে ওঠে ও ফেঁপে ফুলে ওঠে এবং প্রত্যেক প্রকার উদ্ভিদের সবুজ শ্যামল শোভামণ্ডিত জোড়া উৎপন্ন করে’ (সুরা হজ, আয়াত: ৫)। আল্লাহতায়ালা আরো বলেন- ‘তুমি কি দেখনি, নিশ্চয় আল্লাহ আকাশ থেকে পানি অবতীর্ণ করেন যার ফলে পৃথিবী সবুজশ্যামল হয়ে ওঠে? নিশ্চয় আল্লাহ অতি সূক্ষদর্শী ও সর্বজ্ঞ’ (সুরা হজ: আয়াত ৬৩)। বৃষ্টি বর্ষণের বিষয়ে প্রিয়নবী (সা.) বলেছেন, মহা পরাক্রমশালী আল্লাহ বলেছেন, ‘আমার বান্দারা যদি আমার বিধান যথাযথ মেনে চলত, তবে আমি তাদের রাতের বেলায় বৃষ্টি দিতাম আর সকাল বেলায় সূর্য (আলো) দিতাম এবং কখনও তাদের বজ্রপাতের আওয়াজ শুনাতাম না।’ (মুসনাদে আহমদ) অপর দিকে যারা পাপাচারে লিপ্ত এবং সীমালঙ্ঘন করে তাদেরকে আল্লাহপাক পানি বর্ষণের মাধ্যমে শাস্তিও দিয়ে থাকেন। যেভাবে পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন- ‘আমি তাদের ওপর পাথরের প্রচণ্ড বৃষ্টি বর্ষণ করলাম। অতএব চেয়ে দেখ, অপরাধীদের কী পরিণাম হয়ে থাকে’ (সুরা আরাফ, আয়াত: ৮৪)। পাপাচারিদের ওপর পাথর কুচি ও শীলাখণ্ডের বৃষ্টি বর্ষণ বিভিন্ন সময় হয়েছে বলে প্রমাণ পাওয়া যায়। পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন- ‘আর আমি তাদের ওপর এক বৃষ্টি বর্ষণ করলাম। আর যাদের সতর্ক করা হয় তাদের ওপর বর্ষিত বৃষ্টি অতি ক্ষতিকর হয়ে থাকে’ (সুরা শোআরা, আয়াত: ১৭৩)। তাই আমাদের কর্মের দুর্বলতার জন্য যেন আল্লাহপাকের বৃষ্টির পানি ক্ষতির কারণ না হয় সে জন্য সর্বদা তার দরবারে দোয়ারত থাকতে হবে। যেহেতু নির্জীব পৃথিবীকে তিনি সজীব করেন আবার তিনিই মরুভূমিতেও পরিণত করতে পারেন। লেখক: গবেষক ও কলামিস্ট

Author: admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *