পিকে হালদারের আলোচিত বান্ধবী রুনাইসহ গ্রেপ্তার ৩

সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা লুট করে বিদেশে পালিয়ে যাওয়া প্রশান্ত কুমার হালদারের (পিকে হালদার) আলোচিত বান্ধবী ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট

নাহিদা রুনাইকে গ্রে'প্তার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একই সঙ্গে ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের ভারপ্রাপ্ত এমডি সৈয়দ আবেদ হাসান ও সিনিয়র ম্যানেজার রাফসান

রিয়াদ চৌধুরীকেও গ্রে'প্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ মার্চ) বিকেল ৪টার দিকে তাদের গ্রে'প্তার করা হয়েছে বলে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। এর আগে সোমবার পি কে হালদারের সহযোগী ১২২ জনের ওপর বিদেশ যাওয়ার নিষেধাজ্ঞার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। কে এই নাহিদা রুনাই : অনুসন্ধানে জানা গেছে, চট্টগ্রামের খুলশী থানার পূর্ব নাসিরাবাদ এলাকার জাকির হোসেন বাইলেন স্থায়ী ঠিকানার বাসিন্দা নাহিদা রুনাই। তাদের বাড়িটি স্থানীয়ভাবে মোজাফ্ফর খানের বাড়ি হিসেবে পরিচিত। রুনাইয়ের বাবার নাম মফিজুর রহমান। তিনি চট্টগ্রামে একটি সরকারি দপ্তরে ‘করণিক’ পদে চাকরি করতেন। রুনাই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লেখাপড়া শেষে জীবিকার সন্ধানে ঢাকায় এসে রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডে চাকরি পান। যেভাবে পি কের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে জড়ান রুনাই :

রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডে ২০০৯ সাল থেকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন পি কে হালদার। ২০১১-১২ সালে পি কে হালদারের সঙ্গে পরিচয় হয় রুনাইয়ের। এরপর ঘনিষ্ঠতা। তারপর আর তাকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। বিশেষ হাতের ছোঁয়ায় দ্রুত উন্নতি হয় রুনাইয়ের। এসএমই লোন শাখার অফিস এক্সিকিউটিভ থেকে প্রতিষ্ঠান প্রধান পি কে হালদারের বান্ধবী ‘বড় আপা’ হিসেবে পরিচিতি পান তিনি। ২০১৫ সালের জুলাইয়ে এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের এমডি পদে যোগ দেন পি কে হালদার। পি কে হালদার রিলায়েন্স ফাইন্যান্স থেকে নাহিদা রুনাইকে নিয়ে আসেন ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসে। দ্রুত সময়ে তাকে ৪ টি পদোন্নতি দিয়ে ভাইস প্রেসিডেন্ট করেন পি কে হালদার। আত্মসাৎ ও পাচারকৃত অর্থের হিসাব রাখতো রুনাই : দুদক কর্মকর্তারা বলছেন, পি কের টাকা পাচারের অন্যতম সহযোগী এই নাহিদা রুনাই। কোন প্রতিষ্ঠান থেকে কত টাকা আত্মসাৎ ও পাচার হচ্ছে সেই হিসাব রাখতেন রুনাই। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন মহলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ‘ম্যানেজ’ করতে রুনাইয়ের দক্ষতা অপরিসীম। তিনি বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ‘ম্যানেজ’ করতে সিদ্ধহস্ত। দুদকের অনুসন্ধান দলের একজন কর্মকর্তা বলেন, পি কের দখলে থাকা ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটিজের ১০০ কোটি টাকা নিজের মতো করে খরচ করার সুযোগ পান রুনাই। এ ছাড়া পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড

Author: admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *