সৌদি প্রবাসীদের ভাগ্য এখন কফিলের উপর

সাতক্ষীরার রজব আলী গত ডিসেম্বরে সৌদি আরব থেকে দেশে আসেন ছুটি নিয়ে। করোনার কারণে আটকা পড়ার ভয়ে বাড়তি টাকা দিয়ে মে মাসের টিকিট ২৮ মার্চ করেন। কিন্তু এর আগেই বন্ধ হয়ে যায় উড়োজাহাজ

যোগাযোগ। ছুটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। কোনো উপায় না দেখে কফিলের (নিয়োগকর্তা) সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। মেয়াদ বাড়াতে রাজি হননি কফিল। পাঁচ মাসের ছুটি নিয়ে গত জানুয়ারিতে দেশে আসেন

গাজীপুরের জসিমউদ্দিন ব্যাপারী। ফেরার টিকিট না পেয়ে কফিলের শরণাপন্ন হন। ২৩ নভেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ বাড়িয়েছেন কফিল। তবে বেশি দেরি না করে আগেই যেতে চান জসিমউদ্দিন। তিনি বলেন, শীতে করোনা বাড়লে আবার বন্ধ হতে পারে ফ্লাইট। তাই নতুন করে আর ঝুঁকি নেওয়া যাবে না। সামনে চার অনিশ্চয়তা – ছুটির মেয়াদ না বাড়া। – যথাসময়ে ফ্লাইটের টিকিট না পাওয়া। – করোনার পরীক্ষা করাতে না পারা। – শীতে করোনার

সংক্রমণ বাড়লে ফ্লাইট বন্ধের শঙ্কা। ছুটিতে এসে দেশে আটকা পড়া সৌদিপ্রবাসী কর্মীদের অবস্থা এখন রজব আলী আর জসিমউদ্দিনের মতোই। সবার ভাগ্য নির্ভর করছে কফিলের ওপর। সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ছুটির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল, যা আজ ৩০ সেপ্টেম্বর শেষ হয়ে যাচ্ছে।“প্রায় ৫০ হাজার প্রবাসীর সৌদি আরবে ফেরার মেয়াদ শেষ হচ্ছে আজ। নিয়োগকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করে মেয়াদ বাড়িয়ে নিতে হবে।” এর আগে উড়োজাহাজের টিকিটের দাবিতে ২১ সেপ্টেম্বর থেকে রাস্তায় নামেন প্রবাসী কর্মীরা। এরপর ২৩ সেপ্টেম্বর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, নতুন করে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। এমন সিদ্ধান্তে প্রবাসী

বাংলাদেশিদের ভিসা ও ইকামার (কাজের বৈধ অনুমতিপত্র) মেয়াদ আরও ২৪ দিন বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়। তবে সৌদি আরবে ভিসা প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত এজেন্সি ও বাংলাদেশ দূতাবাসের সূত্র বলছে, আনুষ্ঠানিকভাবে এখন পর্যন্ত নতুন করে ছুটির মেয়াদ বাড়ানো হয়নি। সরকারিভাবে মেয়াদ বাড়ানোর কথা বলা হলেও তা আসলে মুখে মুখে। সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে কারও মেয়াদ বাড়েনি এবার। সবাইকে আলাদা করে কফিলের সঙ্গে যোগাযোগ করে মেয়াদ বাড়িয়ে নিতে হবে। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে প্রথম আলোকে বলেন, নতুন সিদ্ধান্তের বিষয়টি হালনাগাদ

করে সমস্যা সমাধানের জন্য ঢাকায় সৌদি দূতাবাস ও রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাস সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলছে। সৌদি আরব বলেছে, ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত ইকামার মেয়াদ বাড়িয়ে দেবে। ছুটির মেয়াদ বাড়াতে হলে কর্মীদের তাঁর কফিলকে রাজি করাতে হবে। এ ক্ষেত্রে সৌদি সরকারের কিছু করার নেই। তবু চেষ্টা চলছে। আজ মধ্যপ্রাচ্যের সব রাষ্ট্রদূতদের ডাকা হয়েছে- এ কে আব্দুল মোমেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছুটি ও ফিরতি ভিসার জটিলতা ঢাকা ও রিয়াদের কূটনৈতিক সূত্র বলছে, ছুটিতে যাওয়ার সময় সব প্রবাসী কর্মীকে ‘এক্সিট রিএন্ট্রি ভিসা’ বা পুনরায় প্রবেশের ভিসা নিয়ে যেতে হয়। ছুটি যত দিনের, এ ভিসাও তত দিনের থাকে। তাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ফিরে যেতে হয়। কফিল ছুটি বাড়ালে ভিসার মেয়াদও বেড়ে যায়। কারও যদি ইকামার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়, তাও বাড়িয়ে নিতে হয়। এসব কাজ অনলাইনে করতে পারেন কফিল। কিন্তু করোনার জন্য লাখো কর্মী আটকা পড়েছেন। তাঁদের সবারই ছুটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। এঁদের জন্য অন্তত ৫০ হাজার কফিলকে আলাদা করে আবেদন করতে হবে। তাই কফিলদের পক্ষ থেকে সৌদি সরকার স্বয়ংক্রিয়ভাবে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ বাড়িয়ে দেয়। এখন সবাইকে কফিলের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজ নিজ ছুটির মেয়াদ ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ইকামার মেয়াদ বাড়াতে হবে। প্রবাসীরা বলছেন, সবার কফিল ভালো নয়। তাই স্বয়ংক্রিয়ভাবে না বাড়ালে সবার মেয়াদ বাড়বে না। ইকামার জন্য সৌদি সরকারের বিভিন্ন ফি আছে। আবার অনেক প্রবাসী টাকার বিনিময়ে কফিলের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ থাকেন। এক বছরের ইকামার জন্য অনেক প্রবাসী কফিলকে ৫ থেকে ৬ হাজার রিয়াল (১ লাখ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা) দিয়ে থাকেন। তাই কর্মীর অনুপস্থিতিতে ইকামার মেয়াদ বাড়ানোর ঝুঁকি নিতে চাইবেন না কফিলরা। এ বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন প্রথম আলোকে বলেন, সৌদি আরব বলেছে, ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত ইকামার মেয়াদ বাড়িয়ে দেবে। ছুটির মেয়াদ বাড়াতে হলে কর্মীদের তাঁর কফিলকে রাজি করাতে হবে। এ ক্ষেত্রে সৌদি সরকারের কিছু করার নেই। তবু চেষ্টা চলছে। আজ মধ্যপ্রাচ্যের সব রাষ্ট্রদূতদের ডাকা হয়েছে।

Author: admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *