বিএনপির আমলে আসা রোহিঙ্গাদের অনেকেই এখনও আছে: তথ্যমন্ত্রী

যুদ্ধ বিগ্রহের মাধ্যমে নয় কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ করে সরকার রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান করতে চায় বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের

কূটনৈতিক তৎপরতার কারণেই ওআইসি’র পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক আদালতে মায়ানমারের বিচার হচ্ছে। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি আমাদের সরকার কোনও যুদ্ধ বিগ্রহের মাধ্যমে নয় কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ করে এবং

আন্তর্জাতিক মহল থেকে চাপের মাধ্যমে, কূটনীতি ও আন্তর্জাতিক আদালতের মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান করতে চায়, আমরা সেই পথেই হাঁটছি। এতে ইতিমধ্যে অনেক সফলতা এসেছে। শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরীর সিআরবি শিরিষ তলায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। মুজিববর্ষ উপলক্ষে পাঁচ লাখ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন উপলক্ষে সামাজিক সংগঠন ‘তিলোত্তমা চট্টগ্রাম’ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন

করে । ড. হাছান মাহমুদ বলেন, মায়ানমারকে আন্তর্জাতিক আদালত থেকে তিরস্কারের মতোই করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক আদালত থেকে মায়ানমারকে সমন দেয়া হয়েছে, পাশাপাশি কিছু নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে। রোহিঙ্গাদের ফেরত নিয়ে যাবার জন্য বলা হয়েছে। অনেককে বিচারের আওতায় আনতে বলা হয়েছে। এটি বাংলাদেশেরই কূটনৈতিক তৎপরতার সফলতা। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ঠিক মতো হচ্ছে না বিএনপি মহাসচিব মির্জা

ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ১৯৯১ ও ’৯২ সালে বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল তখন বাংলাদেশে যেসব রোহিঙ্গারা এসেছিল তাদের অনেকেই কিন্তু এখনও আছে। তাদের সবাই ফেরত যায়নি। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেবকে বলবো ১৯৯১ সালের পর বিএনপি দু’দফায় ১০ বছর ক্ষমতায় ছিল, তাদের সময়ে যে রোহিঙ্গারা এসেছিল তাদেরকে তারা ফেরত

পাঠাতে পারেননি। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী মানবিক দিক বিবেচনা করে রোহিঙ্গাদের জন্য সীমান্ত খুলে দিয়েছিলেন। সেখানে যেই বর্বরতা চলছিল সেই বর্বরতার হাত থেকে লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা রক্ষা পেয়েছে। এতে সমগ্র পৃথিবী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসা করেছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পত্রপত্রিকা ও গণমাধ্যম প্রধানমন্ত্রীকে ‘মাদার অব হিমিউনিটি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। যেখানে সমগ্র পৃথিবী প্রশংসা করছে সেখানে বিএনপি প্রশংসা করতে পারেনি। বৃক্ষরোপণ নিয়ে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ১৯৮১ সালে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে দেশে আসার পর ১৯৮৩ সাল থেকে তিনি বৃক্ষরোপণকে আন্দোলনে রূপান্তর করার উদ্দেশ্যে কৃষক লীগের মাধ্যমে মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান শুরু করেছিলেন। ’৯৬ সালে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়ার পর বৃক্ষরোপণকে পরিপূর্ণভাবে একটি আন্দোলনে

রূপান্তর করতে তিনি সক্ষম হয়েছেন। মানুষ এখন হাটবাজারে গিয়ে প্রয়োজনীয় পণ্যের পাশাপাশি গাছের চারাও কিনে আনেন। বিভিন্ন হাটবাজারে অন্য দোকানের পাশাপাশি এখন গাছের চারার দোকানও আছে। এতে করে দেশে আজকে বৃক্ষরোপণ একটি আন্দোলনে রূপান্তরিত হয়েছে। এই আন্দোলনের পেছনে ‘তিলোত্তমা চট্টগ্রাম’-এর মতো সামাজিক সংগঠনগুলোর বিরাট অবদান রয়েছে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে বৃক্ষাচ্ছাদিত এলাকার পরিমাণ হচ্ছে ভূ-ভাগের ২২ দশমিক ৪ শতাংশ, বনভূমির পরিমাণ ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ। এই ছোট্ট দেশে বৃক্ষাচ্ছাদিত এলাকার পরিমাণ ভারতের চেয়েও বেশি। তবে আমাদের দেশ আরও সুন্দর ও পুষ্পপল্লবে সুশোভিত হতে পারতো যদি আমরা আরেকটু সচেতন হতাম। বৃক্ষরোপণের ক্ষেত্রে আমরা যদি আরেকটু যত্নবান হই তাহলে আমরা দেশকে আরও সুন্দর করতে পারি। ‘তিলোত্তমা চট্টগ্রাম’-এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক সাহেলা আবেদীন রীমা’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন দৈনিক আজাদী সম্পাদক এমএ মালেক, সিএমপি’র উপ পুলিশ কমিশনার বিজয় বসাক, সাংবাদিক ওসমান গণি মনসুর, সিপিডিএল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইফতেখার সোহাগ, চট্টগ্রামের প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ, এলভিয়ন গ্রুপের চেয়ারম্যান রইস উদ্দিন সৈকত, শিল্পপতি এসএম আবু তৈয়ব, লায়ন শামসুদ্দিন সিদ্দিকী, দৈনিক আজাদী’র সহযোগী সম্পাদক রাশেদ রউফ, সাবেক কাউন্সিলর সাইফুদ্দিন খালেদ প্রমুখ।

Author: admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *