শ্রমিকদের অনুদান দিতে বললেন ফখরুল

চলমান লকডাউনে শ্রমিকদের জন্য মাসিক সরকারি অনুদান দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের উদ্যোগে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও শ্রমিক নেতা জাফরুল হাসানের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী

উপলক্ষে ভার্চুয়াল আলোচনাসভায় তিনি এ দাবি জানান। বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘কোভিড-১৯ কালে অবশ্যই শ্রমিকদের সাবসিডি দিতে হবে। প্রত্যেক শ্রমিক নেতা ও শ্রমিককর্মীদের অবশ্যই সরকারের তরফ থেকে ত্রাণ সহযোগিতা করতে হবে। এ মুহূর্তে এটিই হচ্ছে সবচেয়ে বড় দাবি। দেশে ইনফরমাল সেক্টরে যত শ্রমিক আছেন, গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিগুলোতে যত শ্রমিক আছেন, অন্য কলকারখানার সঙ্গে যেসব শ্রমিক

তাদের প্রত্যেককে মাসে একটি অনুদান অবশ্যই দিতে হবে, যেটি অন্যদের দেওয়া হয়েছে। শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেইনের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বিএনপি নেতা শামসুজ্জামান দুদু, মজিবর রহমান সরোয়ার, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, শ্রমিক নেতা নাইমুল হাসান জুয়েল, ওয়াজেদ-উল ইসলাম খান, নুরুল ইসলাম খান নাসিম, মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জু, নাজিম উদ্দিন, সালাহউদ্দিন সরকার, প্রয়াত

নেতার মেয়ে নাসরিন হাসান টিমা প্রমুখ। মির্জা ফখরুল বলেন, করোনাকালে শুধু মালিকদের দিলেই হবে না, ব্যাংক থেকে ঋণ দিলেই হবে না। আমি লন্ডনে আমার বন্ধুর সঙ্গে কথা বলছিলাম, সে আমাকে বলছে- আমি এখন খুব ভালো অবস্থায় আছি। কোনো লকডাউনে? সে বলছে- সরকার আমাকে দিচ্ছে ১৫০০ পাউন্ড। এটিকেই বলে ওয়েলফেয়ার স্টেট, এটিকেই বলে মানুষের জন্য ভালোবাসা- কমিটমেন্ট টু দ্য পিপল। আসুন, আমরা এই আন্দোলনটা গড়ে তুলি শ্রমিকদের নিয়ে যে, আজকে এই সময়ে তাদের ইনসেনটিভ দিতে হবে, ত্রাণ দিতে হবে

এবং তাদের সহযোগিতা দিতে হবে। তিনি বলেন, এখন শুধু আনুষ্ঠানিকতায় চলে গেছি, আমরা দোয়া করছি, মিলাদ করছি, স্মরণ সভা করছি। সংগঠন গড়ে না তুললে আন্দোলন কীভাবে হবে? আপনার সরকার পরিবর্তন করতে হলে, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারকে সরাতে হলে তো প্রধান যে দুটি শক্তি দরকার, তার একটি হচ্ছে- ছাত্র সংগঠন; আরেকটি শ্রমিক সংগঠন। সেই সংগঠন তো আমরা সেভাবে গড়ে তুলতে পারছি না। সেটি তো আমাদের ব্যর্থতা। সে কারণে আমি অনুরোধ করব। আসুন, আমরা সবাই পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ করি, কথা বলি-

কীভাবে সংগঠনগুলোকে আবার গড়ে তোলা যায় সেই চেষ্টা করি। মির্জা ফখরুল বলেন, করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অনেকে। মওদুদ আহমদ আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। করোনায় আক্রান্ত হয়ে রুহুল আলম চৌধুরীসহ অনেকে চলে গেছেন। এ অবস্থা আমাদের কাটিয়ে উঠতে হবে। জাফরুল হাসানের কর্মময় জীবনের কথা তুলে তিনি বলেন, আজকে দেখুন, গ্রোথ হচ্ছে- মালিকরা গাড়ি-বাড়ি কিনছেন, বিদেশে প্রপার্টি তৈরি করছেন। আর শ্রমিক ভাইবোনেরা বস্তিতে বাস করছে, দুইবেলা ঠিকমতো তারা খেতেও পায় না। এ বিষয়গুলো

শ্রমিক নেতাদের দেখা উচিত। নজরুল ইসলাম খান বলেন, আসুন জাফর ভাইয়ের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে শপথ করি- যতদিন বেঁচে আছি, ততদিন সংগঠনের জন্য আন্তরিকভাবে কাজ করব।

Author: admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *