আঘাত এসেছে, হেফাজতকে প্রতিঘাত করা হবে: হানিফ

ধর্মের নামে বিএনপি-জামায়াত ও হেফাজত মিলে সারাদেশে জ্বালাও-পোড়াও-ভাঙচুর করে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের প্রতিটি নেতাকর্মীকে নির্দেশ দিচ্ছি- সরকারের পাশে

থেকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে দমন করতে হবে। আঘাত এসেছে, প্রতিঘাত করা হবে, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। ধর্মের নামে হেফাজত অধর্মের কাজ করছে, রিসোর্টে নারী নিয়ে ধরা পড়েছে হেফাজতের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মামুনুল হক। সম্পর্কিত খবর মামুনুল হকসহ হেফাজতের উগ্রপন্থিরা যে কোনো সময় গ্রে'প্তার মামুনুল সমর্থকদের হামলায় আহত আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু ‘আওয়ামী লীগের

নেতা-কর্মী, মন্ত্রীরা পর্যন্ত শরিয়া আইনের উদ্ধৃতি দিয়ে পোস্ট দিয়েছেন’ বুধবার (৭ এপ্রিল) সকালে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে হেফাজতে ইসলামের তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত আওয়ামী লীগ অফিস, যুবলীগ-ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বাড়িঘর পরিদর্শন শেষে মাহবুবুল আলম হানিফ এসব কথা বলেন। হানিফ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, যেখানেই সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী হেফাজতে ইসলাম ধর্মের নামে অরাজকতা সৃষ্টি করার

অপচেষ্টা করবে, সেখানেই প্রতিরোধ করতে হবে। যারা এই হামলার সঙ্গে জড়িত, তাদের তালিকা করতে হবে। এদের খুঁজে বের করতে হবে। এদের বিরুদ্ধে সরকারিভাবে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন, একজন ধর্ম ব্যবসায়ীকে কেন্দ্র করে যে ঘটনা ঘটেছে। তাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের অফিস ভাঙচুর করা হয়েছে, যুবলীগের নেতার বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছে, ছাত্রলীগের নেতার বাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে, সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার নির্যাতন করা হয়েছে। একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিতে চাই— ধর্ম ব্যবসায়ী মামুনুল তার সঙ্গে

স্ত্রী পরিচয় দিয়ে একজন নারীকে নিয়ে এখানে এসেছিলেন এবং অনৈতিক কাজে জড়িত ছিলেন বলেই সাধারণ মানুষ তাকে ধরেছে। এই বিষয়টি কেন্দ্র করে তথাকথিত ধর্ম ব্যবসায়ীরা যে ভাঙচুর ও নির্যাতন করেছে, তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। এই ঘটনায় জড়িত সবার নাম-ঠিকানার সংগ্রহ করতে আওয়ামী লীগের প্রতিটি নেতাকর্মীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে হানিফ বলেন, যারা আওয়ামী লীগের অফিসে হামলা করেছে, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বাড়িঘরে হামলা করেছে, মানুষের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা করেছে, এসব হামলার সঙ্গে যুক্তদের পরিচয় সংগ্রহ

করুন। বাড়ির ঠিকানা সংগ্রহ করুন। কে কোন ব্যবসায় যুক্ত, এসব তথ্য সংগ্রহ করুন। আমরা চাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ শান্তিপূর্ণ পরিবেশ উন্নয়ন অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকুক। কিন্তু ধর্মের নাম করে অধর্মের কাজ করা, ভাঙচুর করা বরদাস্ত করা হবে না। এই ঘটনায় জড়িত প্রত্যাককেই আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। আর যারা ধর্মের নামে অধর্মের কাজ করবে, তাদের হাত থেকে ধর্মকে রক্ষা করব। ধর্মের নাম করে যারাই ভাঙচুর করেছে, এদের ছাড় দেওয়া হবে না। হামলার শিকার হয়ে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের

প্রত্যেককে আলাদা আলাদাভাবে মামলা করার পরামর্শ দেন মাহবুবউল আলম হানিফ। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আমাদের ওপর যে আঘাত করা হয়েছে, এই আঘাতের প্রতিঘাত করা হবে। আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, সারাদেশে এই ধর্মের নাম দিয়ে বিএনপি, জামায়াত ও হেফাজত পরিচয়ে যারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করছে— এখন থেকে আওয়ামী লীগের প্রতিটি নেতাকর্মীরা সরকারের পাশে থেকে এই সকল অপশক্তিকে কঠোরভাবে দমন করবে। আশা করি আমাদের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হবেন। তিনি আরো বলেন, আওয়ামী লীগের সভাপতি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে করোনাকালীন এই দুর্যোগে স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে এবং মাস্ক পরিধান করে পুরো জাতিকে করোনার সুরক্ষা দিতে হবে। আর আগামী দিনে সব অপশক্তিকে দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। পরে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা হেফাজতের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত সেনারগাঁও উপজেলা আওয়ামী লীগের মোগড়াপারা চৌরাস্তা প্রধান কার্যালয়, সোনারগাঁও উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি রফিকূল ইসলাম নান্নুর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাড়ি ও তার শ্বশুরবাড়ি, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি সোহাগ রনির বাড়ি পরিদর্শন করেন। আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দলে ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য বাহাউদ্দিন নাসিম, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী

ও দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক ও সংসদ সদস্য মৃনাল কান্তি দাস, সংসদ সদস্য শামীম ওসমান, নজরুল ইসলাম, সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল কায়সার হাসনাত, সোনারগাঁও উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক সামসুল ইসলাম ভুইয়া, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান কালাম, ডা. আবু জাফর চৌধুরি বিরু, ইঞ্জিনিয়ার মাসুদুর রহমান মাসুমসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। প্রসঙ্গত, গত ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে দিঘীরপার এলাকায় অবস্থিত রয়্যাল রির্সোটে এক নারীকে নিয়ে ওঠেন হেফাজতে ইসলামের ঢাকা মহানগরের সাধারণ সম্পাদক ও হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক

মামুনুল হক। খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন রির্সোটে নারীসহ মামুনুল হককে অবরুদ্ধ করে রাখে। মামুনুল হক দাবি করেন ওই নারী তার দ্বিতীয় স্ত্রী। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। এসময় স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লাইভ করেন। পরে হেফাজতের নেতাকর্মীরা জড়ো হয়ে রিসোর্টে ভাঙচুর চালিয়ে মামুনুল হককে ছাড়িয়ে নেন। পরে তারা আওয়ামী লীগের কার্যালয়, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতারকর্মীদের বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুর চালায়।

Author: admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *