নামাজের সময় আল্লাহর ধ্যা’নে মগ্ন থাকতে হবে

বিশ্বনবী (সা.) তার জীবনের সর্বশেষ মুহূর্তে সাহাবিদের মসজিদে নামাজের কাতারে সারিবদ্ধ দেখে মুচকি হেসেছিলেন। এটাই ছিল তার পবিত্র

জীবনের সর্বশেষ হাসি এবং সর্বশেষ আনন্দ। এর কারণ উল্লেখ করে হাদিসবিশারদগণ লিখেছেন, একদিন তিনি যাদের পবিত্র ঘর কাবায় ৩৬০টি

মূর্তি ধারণ করে পূজা করতে দেখেছিলেন, আজ তাদের স্বীয় মসজিদে তৌহিদের পতাকা উত্তোলন করে মহান আল্লাহর সম্মুখে সিজদায় নতশির দেখছেন, সুতরাং তার শুভাগমনের উদ্দেশ্য সফল হয়েছে, এর চেয়ে অধিক আনন্দের আর কী হতে পারে! তাই চিরবিদায়ের মুহূর্তে মুচকি হেসে প্রিয় নবী স্বীয় হৃদয়ের আনন্দ প্রকাশ করেন। আবদিয়ত লাভের উপায়: নামাজের সর্বাধিক বরকতময় দিক হচ্ছে এই যে এর মাধ্যমে

মানুষ তার স্রষ্টার প্রতি আবদিয়ত ও আনুগত্য প্রকাশ করে থাকে। আল্লাহ নামাজের মাধ্যমে স্বীয় বান্দাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে থাকেন। সম্পর্কিত খবর নামাজের আগে-পরে গণজমায়েত করা যাবে না মামুনুল হকের পেছনে নামাজ পড়া কি জায়েজ? প্রশ্ন খোকনের মসজিদে নামাজ আদায়ে ১০ নির্দেশনা এ কারণেই নামাজে একাগ্রতা, খুশু-খুজু অত্যাবশ্যকীয় বলে বিবেচিত। এ কারণেই হাত পা নাক কান

চোখসহ দেহের সমস্ত অঙ্গপ্রত্যঙ্গ, চিন্তা-মেধা, আত্ম-অন্তর সবকিছুকেই সম্পূর্ণভাবে আল্লাহর প্রতি নিবিষ্ট রাখতে হয়। রসুলের সুন্নতই হচ্ছে এর একমাত্র উপায়। এ সময় অন্য কাউকে শরিক করার অনুমতি নেই। কেননা তাহলে সমস্ত ধ্যান আল্লাহতে নিমগ্ন রাখা সম্ভব হবে না। নামাজে রসুলের ধ্যান: নামাজের মধ্যে রসুলের ধ্যান বা তাঁর প্রতি মনোনিবেশ করা যাবে কি না এ সম্পর্কে আমাদের বুজুর্গানে দীন বিশেষত

মুফতি রশিদ আহমাদ গাঙ্গুহি (রহ.)-এর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে কোনো কোনো মহল সমালোচনার দ্বার উন্মুক্ত রেখেছে। তাদের সমালোচনা ও দোষ চর্চা করা মূর্খতা বা পরশ্রীকাতরতা ছাড়া কিছু নয়। বস্তুত নামাজে রসুল (সা.)-এর খেয়াল আসা স্বাভাবিক এবং এটা কবুলিয়াতের আলামত। এটা অনেক সময় আল্লাহর প্রতি একাগ্রচিত্ত হতে সহায়ক হয়। এটাকে না আমাদের কোনো বুজুর্গ অস্বীকার করেছেন, না মুফতি সাহেব করেছেন। তবে যদি রসুলের ধ্যান আল্লাহর ধ্যানের জন্য বাধার কারণ হয়ে দাঁড়ায় তাহলে এ অবস্থায় ইচ্ছাকৃতভাবে রসুল (সা.)-এর

ধ্যান করা সমীচীন নয়। তবে বিশ্বরসুলের ধ্যান নামাজের মধ্যে সবার জন্য বাধার কারণ হয় না। যারা বিশ্বরসুলের গভীর প্রেমিক ও আশেক, যারা নবীর ভালোবাসায় কাতর অস্থির, যাদের অন্তরে বিশ্বরসুলের ভালোবাসার আগুন দাউদাউ করে জ্বলে- এটা তাদের জন্য বাধার কারণ হতে পারে। উপমাস্বরূপ, আপনি মনোযোগ এবং একাগ্রতার সঙ্গে নামাজে রত আছেন। আপনার সামনে দিয়ে অনেক সময় ছোট কচি শিশু আনাগোনা করে, অনেক সময় বিড়াল-কুকুর আনাগোনা করে, কিন্তু তা আপনার ধ্যানের জন্য কোনো ধরনের বাধার কারণ হয় না। তবু যাতে

আনাগোনা না করে সেজন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকেন। কিন্তু মনে করুন আপনি কারও প্রতি প্রেমাসক্ত এবং অতি আসক্ত, যাকে পাওয়ার জন্য আপনি অস্থির, বহুকাল ধরে অধীর চিত্তে অপেক্ষমাণ; প্রেমাস্পদের মধুর মিলনের আশায় টাকা-কড়ি, অর্থসম্পদ, ইজ্জত-সম্মান সবকিছু লুটিয়েছেন, অবশেষে এ কারণে রাজমুকুট হারিয়েছেন, সর্বোপরি নানা ধরনের আলোচনা-সমালোচনা, নিন্দাবাদ মাথায় নিয়ে একই চিন্তায় কিংকর্তব্যবিমূঢ়; মাজনুনের বেশে আপনার প্রতীক্ষার শেষ মুহূর্তে নামাজের অবস্থায় যদি সেই কাক্সিক্ষত লাইলির শুভাগমন ঘটে যায়, আর লাইলি স্বীয় মধুর কণ্ঠে আপনাকে প্রেম-মিলনের সুরে আহ্বান করে, তাহলে আপনার উপায় কী হবে, নামাজেরই বা কী অবস্থা হবে? যারা

রসুলের আশেক, যাদের অন্তর রসুলের প্রেম-ভালোবাসার আগুনে জ্বলে-পুড়ে ছাই হচ্ছে; যার মিলনের বুকভরা আশা নিয়ে মৃত্যু কামনা করে বেড়াচ্ছে; তারই নির্দেশ এবং সুন্নত পালনে ব্যাকুল হয়ে আছে; নামাজে দাঁড়িয়ে তার ধ্যানমগ্ন হলে এবং কল্পনার সুরে রসুলের আহ্বান অনুভূত হলে নামাজের অবস্থা কী হবে? এটা আল্লাহর প্রতি ধ্যানের জন্য বাধা হতে পারে কি না? অবশ্যই হতে পারে। আর পারে বলেই ইচ্ছাকৃতভাবে এরূপ আশেকদের জন্য নামাজে রসুলের ধ্যান করা সংগত নয়। নামাজে আল্লাহর ধ্যানে যাতে বিঘ্ন না ঘটে; বরং সম্পূর্ণ মনোযোগ অব্যাহত

থাকে এ উদ্দেশ্যে রসুল কর্তৃক অসংখ্য হাদিসে নির্দেশ বিদ্যমান রয়েছে। নামাজির সামনে দিয়ে যাতায়াতকে হারাম করা হয়েছে। নামাজির দিকে মুখ করে বসতে নিষেধ করা হয়েছে। আর একই উদ্দেশ্যে নামাজিকে সামনে সুতরা রাখার নির্দেশ করা হয়েছে। নামাজের যথাযথ উপকারিতার জন্য এ সবই সুন্নতের অন্তর্ভুক্ত। এভাবে নামাজ আদায়ের মাধ্যমে আল্লাহর সঙ্গে বান্দার গভীর সম্পর্ক হয়, নৈকট্য নসিব হয় এবং নামাজির অন্তর আল্লাহর নুর ও মারিফাতের ভান্ডারে পরিণত হয়। সুন্নত তরকের পরিণাম: মানুষ যদি নামাজে সুন্নতের পাবন্দি না করে তাহলে তার এ বিদাতসংযুক্ত নামাজ তাকে যে কেবল পরকালের প্রতিদান থেকে বঞ্চিত ও আখিরাতের কঠোর আজাবে আক্রান্ত করবে তা-ই নয়; বরং

উপরোক্ত নিয়ামত থেকে বঞ্চিত থাকা ছাড়াও বস্তুজগতেও নানা ধরনের বিপদ-আপদ ও কঠিন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়, এসবই মানুষের কর্মফল।

Author: admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *