যা বললেন সেই নারী চিকিৎসকের বাবা

লকডাউনের মধ্যে মুভমেন্ট পাস নিয়ে চিকিৎসক-পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেটের বাগবিতণ্ডার ঘটনাকে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ বলেছেন ওই চিকিৎসকের বাবা

বীর মুক্তিযোদ্ধা শওকত আলী সরকার (বীর বিক্রম)। সোমবার ডা. জেনির বাবা শওকত আলী সরকার বীরবিক্রম বলেন, করোনা মহামারীর

এই সময়ে করোনা যুদ্ধের সম্মুখ যোদ্ধাদের মধ্যে হঠাৎ করে ঘটে যাওয়া বাকবিতণ্ডার ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত। তিনটি পক্ষই করোনা যুদ্ধের সম্মুখ যোদ্ধা। আমার মেয়ে চিকিৎসক হিসেবে তার পরিচয় দেওয়ার পরও কেন যে তার সঙ্গে এমন আচরণ করা হলো বুঝতে পারলাম না। আমার মেয়ে পরিচয় দেওয়ার পর তাকে ভুয়া বলায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আমরা তো পোশাক দেখেই কয়েকটি পেশার মানুষকে

চিহ্নিত করতে পারি। সম্পর্কিত খবর সুখবর দিলেন খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক সেই নারী চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি পুলিশ সার্ভিসের চিকিৎসককে হেনস্তা: দায়ীদের শাস্তি চায় বিএমএ-স্বাচিব সেনাবাহিনী, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ইত্যাদি পেশার লোকদের পোশাকই বলে দেয় তাদের দায়িত্ব কী। তেমনি অ্যাপ্রোন পরলে আমরা বুঝতে পারি ওই ব্যক্তি চিকিৎসা সেবার সঙ্গে জড়িত। আমার মেয়ের

পরনে অ্যাপ্রোন ছিল, তাতে তার পরিচয়ও লেখা ছিল। গাড়িতে স্টিকার এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যয়নও সাঁটানো ছিল। এরপরও তার সঙ্গে এমন আচরণ এটি অনাকাঙ্ক্ষিত। দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে সব পেশার লোকজন মিলেমিশে সরকারি দায়িত্ব পালন করবেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। ডা. সাঈদা শওকত জেনির বাবার বাড়ি কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলায়। চিলমারী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা শওকত আলী সরকারের চার মেয়ে ও দুই ছেলের মধ্যে অধ্যাপক ডা. সাঈদা শওকত জেনি বড়। তার

দ্বিতীয় মেয়ে বুয়েটের শিক্ষক। তিনি বর্তমানে পিএইচডি করতে আমেরিকায় অবস্থান করছেন। তৃতীয় মেয়ে ডেন্টাল চিকিৎসক। চতুর্থ মেয়ে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার। তিনিও উচ্চশিক্ষার জন্য স্কলারশিপ নিয়ে আমেরিকায় অবস্থান করছেন। ছোট দুই ছেলে বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করেছে। শওকত আলী সরকার বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে ১১ নম্বর সেক্টরে অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেন। তিনি একজন খেতাবপ্রাপ্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা। প্রায় ৪৫ বছর ধরে আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এবং প্রায় ৩৫ বছর ধরে তিনি চিলমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির

দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও পর পর পাঁচবারের নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান তিনি। প্রসঙ্গত, ১৮ এপ্রিল লকডাউনের পঞ্চম দিনে রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডে মুভমেন্ট পাস নিয়ে বাগবিতণ্ডায় জড়ান চিকিৎসক, ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ কর্মকর্তা। চেকপোস্টে পুলিশ সদস্যরা অধ্যাপক ডা. সাঈদা শওকত জেনির কাছে তার আইডি কার্ড দেখতে চান। সঙ্গে আইডি কার্ড আনেননি বলে জানান ওই চিকিৎসক। এরপর তার কাছে মুভমেন্ট পাস দেখতে চাওয়া হয়। জেনি জানতে চান, ডাক্তারের মুভমেন্ট পাস লাগে? এরপর জেনি তার গাড়িতে বিএসএমএমইউর

স্টিকার ও হাসপাতাল থেকে পাওয়া তার লিখিত পাস দেখান। এরপরও পুলিশ তার কাছে আইডি কার্ড দেখতে চান। পরে তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। পরে এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।

Author: admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *