তোফায়েল এখন বলছেন, হেফাজত প্রশ্নে তখনই শক্ত হওয়া দরকার ছিল

তিনি বলেছেন, “নীতির প্রশ্নে শক্তভাবে দাঁড়ালে কোনো অশুভ শক্তি মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে পারে না। ২০১৩ সালের ৫ মে তাণ্ডবের পরই

হেফাজত প্রশ্নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিৎ ছিল।” ঐতিহাসিক মুজিব নগর দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার ১৪ দলের এক ভার্চুয়াল আলোচনা

সভায় সভাপতির বক্তব্যে একথা বলেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সফরের প্রতিবাদ জানাতে নেমে সম্প্রতি হেফাজতে ইসলাম কয়েকটি স্থানে তাণ্ডব চালায়, যা অনেককে ২০১৩ সালের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে গণজাগরণ শুরুর পর তার বিরোধিতায় নামা হেফাজত ২০১৩ সালের ১৩ মে মতিঝিলে শাপলা চত্বরে সমাবেশ ডেকে ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছিল। সেদিন তাদের তুলে দেওয়া হলেও পরবর্তীতে নানা ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ হেফাজতের সঙ্গে আপস

করে চলেছে বলে তার জোট শরিক দলগুলোর মধ্য থেকেও অভিযোগ ওঠে। মঙ্গলবারের আলোচনা সভায় জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, “দুধ দিয়ে সাপ পুষলে তার ফল কখনও শুভ হয় না। বিএনপি, জামায়াত ও হেফাজত একই সূত্রে গাঁথা। সাম্প্রদায়িক অপশক্তি দমনে কোনো আপস নয়।” ১৪ দলের মুখপাত্র ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু মুজিবনগর সরকারের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “অসহযোগ আন্দোলনের সময় বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগের যে হাই কমান্ডকে জাতির সামনে উপস্থাপন করেছেন, তাদের

নিয়ে গঠন করা হয় মুজিবনগর সরকার। আর এই সরকারের অধীনেই কাজ করেছেন সকল সেক্টর ও সাবসেক্টর কমান্ডারসহ বিভিন্ন ফোর্স। আজ যে যত কথাই বলুক না কেন এরা সবাই ছিলেন মুজিবনগর সরকারের বেতনভুক্ত।” আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, তরীকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজ ভান্ডারী, জাতীয় পার্টি-জেপির সাধারণ সম্পাদক শেখ শহীদুল ইসলাম, গণ আজাদী লীগের সভাপতি এস কে সিকদার, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন, ন্যাপের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন আলোচনায় অংশ নেন। হেফাজতকে ছাড় দেওয়া হবে আত্মঘাতী: জাসদ

হেফাজতে ইসলামের নেতাদের ‘রাজনৈতিক মোল্লা’ আখ্যায়িত করে জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু ও সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে বলেছেন, অপরাধ করলে কেউ দায় এড়াতে পারে না। বিএনপি ও হেফাজত গণহারে আলেম-ওলেমাদের গ্রে'প্তারের যে বক্তব্য দিচ্ছে, তার প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, “সহিংসতা-নাশকতা-জ্বালাও-পোড়াও-ধ্বংসাত্মক তাণ্ডবের সুনির্দিষ্ট ফৌজদারি অভিযোগে হেফাজতি রাজনৈতিক মোল্লাদের গ্রে'প্তার মানে গণহারে আলেম-ওলেমা গ্রে'প্তার নয়।” জাসদ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বলেন, আইন সবার জন্য সমান। সুনির্দিষ্ট ফৌজদারি অপরাধের সাথে যুক্ত থাকার হাতে নাতে প্রমাণ থাকার পরও অপরাধীকে গ্রে'প্তার করা যাবে না কেন? কওমি

মাদ্রাসার পরিচালক, প্রিন্সিপাল, শিক্ষক নামধারী হেফাজতি ‘রাজনৈতিক মোল্লারা’ কি দেশের সংবিধান-আইন-আদালতের ঊর্ধে? “হেফাজতি মোল্লারা রাজনৈতিক মোল্লা। এরা আলেম, ওলামা, ইসলামি চিন্তাবিদ, ইসলামি দার্শনিক, ইসলামি পন্ডিত, ধর্মীয় নেতা না, এমনকি এরা ধর্মপ্রচারকও না। এরা রাজনীতি করে, এরা রাজনৈতিক মোল্লা।” বিএনপির সঙ্গে হেফাজতের সম্পর্ক রয়েছে দাবি করে সরকারকে এ বিষয়ে হুঁশিয়ারও করে দিয়েছে জাসদ। “হেফাজতি রাজনৈতিক মোল্লারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে বৈঠক করে যতই নাকে খত দিক, দুঃখ প্রকাশ করুক, মাফ চাক না কেন এদের ছাড় দেয়া হবে সরকার ও দেশের জন্য আত্মঘাতী। কারণ রাজনৈতিক মোল্লারা রেজিস্টার্ড বেঈমান ও বিশ্বাসঘাতক। এরা

পাকিস্তানের দালালি আর বাংলাদেশের বিরোধীতার রাজনীতি কোনো দিনই ছাড়বে না।” হেফাজতকে মোকাবেলায় প্রশাসনের উপর নির্ভর না করে সব গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক প্রগতিশীল রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য আওয়ামী লীগের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ইনু ও শিরীন।

Author: admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *