অতিরিক্ত কাজ দেখিয়ে বছরে অর্ধকোটি টাকা লোপাট

২০১৮ সালের ২৮ মার্চ অর্থ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ পরিপত্র অনুযায়ী অর্থ বিভাগের ব্যয় নিয়ন্ত্রণ অনুবিভাগ কর্তৃক জারিকৃত আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ

সংক্রান্ত নির্দেশনা অনুযায়ী বাজেটে অর্থ সংকুলান সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়/ বিভাগ/ দপ্তরের একজন কর্মচারীকে বছরে একবার

সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সম্মানী দেওয়া যাবে। কোনো কর্মচারীকে ১০ হাজার টাকার অধিক বা একই অর্থ বছরে একবারের অধিক (যে কোনো অঙ্ক) সম্মানী দেওয়ার ক্ষেত্রে অর্থ বিভাগের সম্মতি বা অনুমোদন নিতে হবে। এ ছাড়া রুটিন কাজের জন্য কোনো সম্মানী দেওয়া যাবে না বলে পরিপত্রে বলা হয়। কিন্তু জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের শীর্ষকর্তা ও অর্থ বিভাগের কর্মকর্তাগণ সরকারের এ পরিপত্র না মেনে বছরের পর বছর মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। বিশ্ববিদ্যালয় সান্ধ্যকালীন কোর্সের নীতিমালা অনুযায়ী প্রত্যেকটি বিভাগ কোর্সের ৩৩

শতাংশ অর্থ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জমা হয়। কিন্তু এই অর্থের ব্যয়ের কোনো স্পষ্ট নীতিমালা নেই। এই অস্পষ্টতার সুযোগ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ যে যার মত করে ব্যয় দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন। আরও পড়ুন: চলতি অর্থ বছরের বাজেট পাশ করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক দপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে শিক্ষকদের আয়কর প্রদানের বেতন বিবরণীর কাজ দেখিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ট্রেজারার অধ্যাপক সেলিম ভূঁইয়া ৭৬ হাজার টাকা, অর্থ ও হিসাব দপ্তরের পরিচালক কাজী নাসির উদ্দিন মূল

বেতনের সমপরিমাণ অর্থ ৫৪ হাজার টাকা, অতিরিক্ত পরিচালক সৈয়দ আহমেদ ৬৮ হাজার টাকা, উপ-পরিচালক হাবিবুর রহমান ৬১ হাজার টাকা, ইব্রাহিম মিয়া ৫১ হাজার টাকা, সহকারী পরিচালক সঞ্জয় কুমার ৩৪ হাজার টাকা, সহকারী পরিচালক তরিকুল ইসলাম ৩৪ হাজার টাকা, সহকারী পরিচালক এছান আহমেদ ৩৪ হাজার টাকা, সহকারী পরিচালক আব্দুল কাদের খান ৩৪ হাজার টাকা, সহকারী পরিচালক (অডিট) আমিনুল ইসলাম ৩৪ হাজার টাকা, একাউন্ট অফিসার ইসরাফিল মিয়া ২৫ হাজার টাকা গ্রহণ করেন। এ ছাড়া ২০১৯-২০ প্রথম বর্ষ

সম্মান শ্রেণিতে ভর্তির কাজ, পরীক্ষার পারিতোষিক, ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে ইউজিসিতে বাজেটের প্রস্তাব পাঠানোর কাজ দেখিয়ে আলাদা আলাদাভাবে মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ গ্রহণ করেন সংশ্লিষ্টরা। অর্থ ও হিসাব দপ্তরের কর্মকর্তাদের অভিযোগ- প্রত্যেক বছরই নানান অজুহাতে এ কর্মকর্তাগণ অবৈধ সম্মানী গ্রহণ করে আসছেন। উপপরিচালক ইব্রাহিম মিয়া অতিরিক্ত কাজ দেখিয়ে অর্থ গ্রহণের কথা স্বীকার করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও ট্রেজারার দুইজনেই বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা। তাই তারাও একই আইনে এ অর্থ গ্রহণ করেন। জগন্নাথ

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ট্রেজারার ও ব্যবসায় অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ড. শওকত জাহাঙ্গীর বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিরিক্ত কাজ দেখিয়ে শুধু বাজেট প্রণয়নের সময় একমাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ নেওয়ার সুযোগ আছে। বিভিন্ন খাতের কাজ উল্লেখ করে একাধিকবার বেসিক সমপরিমাণ সম্মানী গ্রহণ করা অনুচিত। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি নূরে আলম আব্দুল্লাহ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ও হিসাব দপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী বছরে একটির বেশি বেসিক পরিমাণ সম্মানী গ্রহণের সুযোগ নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্বে থাকা ট্রেজারার অধ্যাপক ড. কামালউদ্দিন আহমেদ বলেন, সরকার ও ইউজিসির দুইটি অডিট টিমের মাধ্যমে অর্থ হিসাব

দপ্তরের সম্মানীর হিসাবগুলো নিষ্পত্তি করা হয়। এর পরেও যদি সেখানে কোন ধরনের অসঙ্গতি থাকে তাহলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

Author: admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *