সন্তানকে যে ধরনের কথা বলা ঠিক নয়

সন্তানের বয়স ১৩ থেকে ১৯ হলে অন্যের সঙ্গে তুলনা করা থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ কৈশোরে ছেলেমেয়েরা অনেক বেশি আবেগপ্রবণ

হয়। এই সময়ে তাদের মাঝে নানান শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন দেখা দেয়। তাই তাদের সঙ্গে কথা বলতে ও আচরণে সাবধানতা অবলম্বন

করা প্রয়োজন। মানসিক স্বাস্থ্য-বিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন অবলম্বনে কৈশোরে সন্তানদের সঙ্গে কী ধরনের আচরণ করা ঠিক না, সে সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হল। ‘তোমার ভাই/বোন তোমার চেয়ে ভালো’ সন্তানকে কখনই তার ভাই বা বোনের সঙ্গে তুলনা করে ছোট করা যাবে না। মনে রাখতে হবে, প্রত্যেক শিশুরই আলাদা কিছু বৈশিষ্ট ও গুণ আছে। তাই একজনের সঙ্গে অন্যজনের তুলনা করে কথা

বললে শিশুকে ভালো পথে না এনে বরং তার আত্মবিশ্বাসকে দুর্বল করে দিবে। ‘এটা করো না ওটা করো না’ কৈশোরে ছেলে মেয়েরা অন্যের আদেশ অনুযায়ী কাজ করতে বা চলতে চায় না। তাই, তাদের কাজকর্মের ওপর বিধি নিষেধ না টেনে বরং কোন কাজ কেনো করা ঠিক না সে সম্পর্কে বুঝিয়ে বলতে হবে। এছাড়া কিছু ক্ষেত্রে তাদেরকে ঝুঁকি গ্রহণ করতে দিন, এতে অভিজ্ঞতার পাল্লা ভারী হবে। ‘তোমার ব্যক্তিগত কোন

কিছু পরিবার থেকে আলাদা নয়’ শৈশব ও কৈশোরে ছেলেমেয়েদের নিজস্ব ব্যক্তিগত বিষয় থাকতে পারে। তাই তাদের সব ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে প্রশ্ন না তুলে বরং তাদের স্বাধীনতার জন্য জায়গা উন্মুক্ত রাখুন। পোশাক নিয়ে নিষেধাজ্ঞা কৈশোরে ছেলে মেয়েরা অন্যের মাধ্যমে অনেক বেশি প্রভাবিত হয়। এই সময়ে তাদের নিজেদের কিছু মতামত থাকে। তাই পোশাক সম্পর্কে নিজের পছন্দ তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া ঠিক না,

বিশেষত মেয়েদের ওপরে। এছাড়াও, পোশাক নির্বাচন করতে গিয়ে ছেলে মেয়েদের মাঝে লিঙ্গ বৈষম্য তৈরি করা ঠিক নয়। ‘তুমি খুব বেশি ছোট’ সন্তান যতই ছোট হোক না কেনো, মনে রাখতে হবে সে বড় হচ্ছে। তাই তার পছন্দকে সম্মান করা প্রয়োজন। ক্ষেত্রে বিশেষে তার সিদ্ধান্ত তাকে গ্রহণ করতে দিন; ছোট বলে তাকে অবহেলা করা যাবে না। ‘বড় ছেলে-মেয়েরা কাঁদে না’ যে কেউই ভয় পেতে পারে বা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়তে পারে। কৈশোরে ছেলে-মেয়েদের মধ্যে এই প্রবণতা বাড়ে। কোনো কারণে কান্না করলে তাদের আবেগ অবদমন করতে না বলে বরং মানসিকভাবে পাশে থাকার চেষ্টা করতে হবে। ‘তোমার এই অভ্যাস পরিবর্তন করা উচিত’ ছেলে-মেয়েরা এই সময়ে অনেক বেশি

আত্মসচেতন থাকে। তাই তাদেরকে উপহাস বা সমালোচনা না করে বরং গঠনমূলক মতামত প্রকাশ করা উচিত। প্রয়োজনে তাদেরকে পরামর্শ দিতে পারেন কিন্তু কোনোভাবে তাদের ওপর কোনো কিছু চাপিয়ে দেওয়া ঠিক না।

Author: admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *