রোজায় প্রয়োজনীয় কিছু কথা

শারীরিক ও মানসিক সুস্ততায় রোজার গুরুত্ব অপরিসীম। যদি শারীরিক দিক বিবেচনা করা হয় তবে যা পাওয়া যাবে তার মধ্যে মেধাশক্তি বৃদ্ধি,

অতিরিক্ত দৈহিক ওজন হ্রাস, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, কোষের পুনর্গঠন, উচ্চরক্তচাপ ডায়াবেটিসের মতো রোগের উপশম, ও ত্বকের

উপকারিতা উল্লেখযোগ্য। আবার মানসিক দিক বিবেচনায় রয়েছে ধর্মের প্রতি আনুগত্যতা, নমনীয়তা, সচেতনতাসহ বেশ কিছু আধ্যাত্মিক উন্নয়ন যা দ্বারা একজন সংযমী ব্যক্তি হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবেন। এসব ভাবনা বা বিচার বিবেচনায় কিছু প্রয়োজনীয় কথা মেনে চলা উচিত সবর। চলুন, এগুলো সম্পর্কে জানি- সেহরি করুন আমরা ইফতারে অনেকে এত বেশি খেয়ে থাকি যে ভোর রাতের খাবার অনেক সময় খেতে চাই না। এটি স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর। কেননা শরীর সেহরিতে যে শক্তি সঞ্চার করে তা দিয়ে সারা দিন টিকে থাকে। তাই, সেহরি

অতীব জরুরি। পানি পান করুন এবারের রোজা গ্রীষ্মের শুরুতে হওয়ার কারণে সবারই তৃষ্ণায় ছাতি ফেটে যাওয়ার উপক্রম। সেদিক ভেবে সবাই আপনারা পানি পান করছেন। বরফ মিলিয়ে নিচ্ছেন পানিতে যা স্বাস্থ্যের জন্য কিছুটা হলেও ক্ষতি করছে। এভাবে, ঠান্ডা পানি পান না করে স্বাভাবিক মাত্রার পানি পান করুন ইফতার থেকে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত দুই থেকে আড়াই লিটার। সময়োপযুক্ত খাবার খান সারা দিনের উপোষ দেহে পরিমাণ মতো শর্করা, আমিষ, স্নেহজাতীয় খাবারের অংশ যুক্ত করুন। লাল মাংস, তৈলাক্ত, ভাজাপোড়া যতটা কম

খাওয়া যায় সেদিকে খেয়াল রাখবেন। বাজারে মিষ্টি আলু পাওয়া যায়, এটি উপকারী। লাল চাল বা গমের রুটি খেতে পারেন। তবে, স্বাভাবিক পরিমাণে। কাঁচা ছোলাও অনেক উপকারী। ইফতারিতে ফলমূল রাখুন গরমের সময়টাতে বাজারে আমাদের দেশিও ফলমূল পাওয়া যায়। সেগুলো এ গরমের রমজানে সুস্থ থাকার মূলমন্ত্র হতে পারে। ভাজাপোড়া আর তেলের খাবার কমিয়ে ফলফলাদি ইফতারে রাখলে আশা করছি অনেকটাই সুস্থ থাকতে পারবেন। এ সময়ে তরমুজ, বাঙ্গি, পেয়ারা, পেঁপে, কলা, আনারসসহ অনেক দেশজ ফুলমূল পাওয়া যায়। এগুলো শরীরের জন্য

দরকারি। সামর্থ্যে থাকলে খেজুর, মাল্টা, আপেল, আনারস যোগ করতে পারেন। তবে করতে হবে এমনটা নয়। স্বাস্থ্যকে বুঝুন দীর্ঘদিন পর হঠাৎ করে রোজা রাখায় অনেকের শরীর কয়েকদিন হয়তো মিলিয়ে নিতে পারে না। সে ক্ষেত্রে যে ধরনের স্বাস্থ্য জটিলতা দেখা দেবে সে চিকিৎসা নিন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ নয়। নিজে নিজে ধারণা করে দোকান থেকে ওষুধ এনে খাবেন না। লকডাউনের সময়ে বিপদ ডেকে আনবেন না। হালকা ব্যায়াম করুন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ এক ধরনের ব্যায়াম। করোনাকালীন এ বন্দি জীবনে বাইরে বের হওয়াটা তেমন ঠিক হবে না, কেননা আপনি যে স্থানগুলোতে হাঁটাহাঁটি করবেন সেখানে হয়তো কেউ হাঁচি-কাশি দিয়েছেন। গ্রামের পরিবেশে হয়তো

খোলা স্থানে হাঁটাহাঁটি সম্ভব। যারা আমরা শহরে আছি, ঘরে বসেই হালকা ধরনের ব্যায়াম করতে পারি। মোটকথা, এ মহামারিতে নিজেকে সুস্থ রাখতে পারাটাই জীবনযুদ্ধের ব্রত হওয়া উচিত এখন সবার।

Author: admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *