আজ এক বছর, আবরারের ফোন থেকে কল আসে না: আবরারের মা

আবরারের কথা চিন্তা করে এখনও দিন চলে যায়। সারাক্ষণ ভাবি সেদিন হয়তো এটা করলে ওটা হতো না, আবরার হয়তো বেঁচে থাকতো। সারাক্ষণ এমন চিন্তা হয়। আবরারের মতো আর কেউ আসবে না। সোমবার (৫

অক্টোবর) বিকালে এমনভাবেই ছেলে হা’রা’নো মায়ের ক’ষ্টের কথাগুলো বাংলা ট্রিবিউনের কাছে বলছিলেন- বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ রাব্বির মা রোকেয়া খাতুন। বুয়েট শিক্ষার্থী

আবরার ফাহাদ রাব্বিকে পি’টি’য়ে হ’ত্যা’র ঘটনার এক বছর পূর্ণ হয়েছে আজ। এখনও আবরারের স্মৃ’তি নিয়েই বেঁচে আছেন মা রোকেয়া খাতুন। সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকালে আবরার ফাহাদ রাব্বির কুষ্টিয়া শহরের পিটিআই রোডের বাসায় গেলে কথা হয় তার সঙ্গে। রোকেয়া খাতুন বলেন, ছোট বেলায় আবরার খুব শান্ত ছিল। সবার থেকে ও আদর আদায় করে নিতো। বং’শের বড় ছেলে হাওয়ায়, সবার কাছে খুব আদরের ছিল। ও

কখনও মাটিতে পা দিতো না। ওকে সবাই কো’লে করেই রেখেছে। কান্না জড়িত কন্ঠে রোকেয়া খাতুন বলেন, আবরার যে কি ভালো ছিল। ওরা দুই ভাই আমার দুই সাই’ডে শুয়ে থাকতো। ওরা বড় হলে ওর বাবা থাকতো না। আমি এক বিছানায় ওদের সঙ্গে নিয়ে থেকেছি। ও আমাকে অনেক ভালোবাসতো, আর ও আমার প্রথম সন্তান আমিও ওকে সেভাবেই ভালোবাসতাম। ও মোবাইল করে বলতো- ‌আম্মু তুমি মোবাইল ধরো না, আমার টেন’শন হয় না? আজ এক বছর ওর মোবাইল থেকে কল আসে না, রিং আর বাজে না। তিনি বলেন, ঘটনার দিন আবরার বলেছিলো, আমার মা আছে, বাবা আছে। তোরা আমাকে জানডা ভি’ক্ষা দে। আমার মা স’হ্য করতে

পারবে না। ও জানে, যে আমার মা আমাকে নিয়ে বেঁচে থাকে। ও কেমন ছিল, ওর গুণের কথা বলে আমি শেষ করতে পারবো না। আজকের যুগের ছেলে ওরকম হয় না। রোকেয়া খাতুন বলেন, আবরার কখনও মি’থ্যা কথা বলতো না। কারও সঙ্গে বি’রো’ধে যেতো না। এরকম একটা ভালো ছেলেকে মে’রে ফে’লা হয়েছে। আমরা সবাই চাই দো’ষীদের শা’স্তি হোক। আমি মা, আমি চাই ওদের সবার মৃ”ত্যুদ”ণ্ড হোক এবং ওটা কা’র্যকর হোক। ওর দাদার মৃ”ত্যুর আগে যেন দেখে যেতে পারেন তার নাতিকে যারা মেরেছে তারা মৃ’ত্যুদ’ণ্ডে দণ্ডিত হলো, রা’য় কা’র্যক’র হলো। তিনি আরও বলেন, এখন সবারই একটা চাওয়া, যারা কষ্ট দিয়ে মে’রে’ছে, ওদের ওইভাবে কষ্ট দিয়ে মৃ’ত্যুদ’ণ্ড কার্যকরা ক’রা হোক। কিন্তু দেশের আইনে তো এটা হবে না। এখন দেশের প্রচলিত আইন অনুসারে ওদের স’র্বো’চ্চ শা’স্তি এবং এটা কার্যকর করা হোক। শুধু রায় দিলে হবে না। এটা অ’নতিবি’ল’ম্বে কার্যকর হোক। দেশের লোক দেখেছে এবং প্র’ত্যকে কাজ করছে, প্রশাসন, মিডিয়া, দেশের জনসাধারণ, ছাত্র সবাই দেখেছে আবরারকে কত নি’র্ম’ম ও নি’ষ্ঠুর’ভা’বে হ”ত্যা করা হয়েছে। বুয়েট শিক্ষার্থী আবরারের মা রোকেয়া খাতুনবিচার প্রক্রিয়া সম্পর্কে রোকেয়া খাতুন বলেন, এখন পর্যন্ত বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে খুশি। এখন আমরা চাই, যেভাবে বি’চার কাজ এগুচ্ছে সেভাবেই তা এগিয়ে যাক এবং রায়ে সর্বোচ্চ শা’স্তি ‘মৃ”ত্যুদ’ণ্ড হোক। পাশাপাশি তা যেন দ্রু’ত কা’র্যকর হয়। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমি যাওয়ার আগেই তিনি বলেছেন, যে আমি মায়ের আসনে থেকে বি’চা’র করবো। অতএব, তিনি মায়ের আসন থেকেই বি’চা’র করবেন। এখানে আমার কিছু বলার নেই। কারণ একজন মা হয়ে আমি যেমন চাচ্ছি, তাদের সর্বো’চ্চ শা”স্তি মৃ”ত্যুদ’ণ্ড হোক, অবশ্যই তিনিও তা চাইবেন। কারণ তিনিতো দেখেছেন, কীভাবে আবরারকে মে’রেছে। তার পরেই তো তিনি এ কথা বলেছেন। আবরারের মা বলেন, আমার ছেলে ওদের কাছে কি অন্যায় করেছিলো? এখন মোবাইলের যুগ। ওরা জানাতো, যে আপনার ছেলে এই করেছে। ওরা জানাতো, আমি দেখতাম যে আমার ছেলে কোনও অন্যায় করেছে কিনা। কিন্তু আমার ছেলে মা’রা যাওয়ার পরেও কোনও দুর্নাম বের করতে পারলো না। কারণ আমি মা, আমি ওকে ২১ বছর বড় করেছি। আমি দেখি নাই ওর একটা খা’রা’প’ আচরণ। ও শুধু নামাজ পড়তো আর লেখাপড়া করতো। আর যখন আসতো তিন মা-ছেলে একই ঘরে বসে থাকতাম। আমার ছেলেটাকে ওরা নি’র্মম’ভাবে ‘মে’রে’ছে। আল্লাহ রোজ হাশরের মাঠে ওদের বি’চার করবেন। এই দুনিয়াতেও ওদের বি’চার হবে, আল্লার কাছে বলি পর’কালেও যেন ওদের বি’চার করেন। ওরা আমার ছেলেকে যত কঠিন নি”র্যা”তন করেছে, আমি দেখি নাই, আল্লাহ দেখেছে। আল্লাহ বি’চার করবে।

Author: admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *