কী ছিল সেই নথিতে?

কী ছিল নথিতে যেটি প্রকাশিত হলে দেশের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হতো? আর সেই নথি কেনইবা সচিবের পিএসের রুমে অরক্ষিত অবস্থায় থাকবে?

এসব প্রশ্নই ঘুরেফিরে উঠছে। সিনিয়র সাংবাদিক ও বিশিষ্টজনরা বলছেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে থাকা কিছু অসাধু ব্যক্তির তৈরি কোনো ফাঁদ কি না,

তা খতিয়ে দেখা দরকার। ৯৮ বছরের পুরনো আইনে করা মামলায় কারাগারে সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম। আদালতে জমা দেয়া নথি এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কথা অনুযায়ী- অপ্রকাশযোগ্য ডকুমেন্টের ছবি তুলে অপরাধ করেছেন রোজিনা। যেটি প্রকাশিত হলে দেশের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হতো। আরো পড়ুন: কাশিমপুর কারাগারে সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম মঙ্গলবার (১৮ মে) দুপুরে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের

জবাবে সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম গোপনে রাষ্ট্রীয় নথি নিয়ে যাচ্ছিলেন দাবি করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। ওই সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিক রোজিনার পূর্বের কোনো সংবাদের জন্য তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সোমবার (১৭ মে) যে ঘটনা ঘটেছে, সে ঘটনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি না বলে সরকারি ফাইল নিয়ে যাচ্ছিলেন। সেগুলোর ছবি তুলছিলেন। অনুমতি ছাড়াই ওই রুমে প্রবেশ করেছেন।

এগুলো রাষ্ট্রীয় গোপন বিষয়। তিনি অন্যায় করেছেন। মন্ত্রীর এ বক্তব্য নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন বিশিষ্টজনরা। তারা বলছেন- দুর্নীতির রিপোর্ট করায় সাংবাদিককে ফাঁসাতে এটি ফাঁদ কিনা তা খতিয়ে দেখা দরকার। আরো পড়ুন: আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের যা বললেন রোজিনা (ভিডিও) সাবেক সচিব এবং সাবেক প্রধান তথ্য কমিশনার ড. মো. গোলাম রহমান বলেন, গোপনীয় যদি হয়ে থাকে তাহলে মন্ত্রী সেটি ফাঁস করলেন কেন। তিনি তো এ কথা বলতে পারেন না। তিনি রাষ্ট্রের গোপনীয়তাতে মুখোমুখি করে তুললেন। রোজিনা ইসলামকে

বিশেষভাবে অভিযুক্ত করার জন্যই এভাবে দায়ী করা হচ্ছে কিংবা এ ধরনের অভিযোগ তৈরি করা হচ্ছে, আমি জানি না, আদালত ঠিক করবে এটা। সাবেক সচিব আবু আলম শহীদ খান বলেন, ভ্যাকসিন আনব, আমদানি করব, ভ্যাকসিন নেব এ রকম ধরনের চুক্তিতে রাষ্ট্র নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে এমন কিছু আছে কি না এটা বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়, কারণ তাহলে চুক্তিটা পড়তে হবে। আমরা এমনকি শর্ত রেখেছি যাতে আমাদের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ক্ষুণ্ন হয়ে যাবে। সিনিয়র সাংবাদিকরা প্রশ্ন তুলেছেন, যদি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি হয় তাহলে কেন সেটি

অরক্ষিতভাবে সচিবের পিএসের রুমে রাখা হলো? একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক অজয় দাশ গুপ্ত বলেন, এ চুক্তির মধ্যে কী আছে, বাংলাদেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হয় কিনা এ রকম কিছু আছে কিনা, ব্যক্তিস্বার্থে কেউ এখান থেকে সুবিধা নিতে পারে কিনা এ বিষয়গুলো কিন্তু জানতে অনেকের আগ্রহ থাকতে পারে। এই চুক্তিটার ফাইল এমন একটি কক্ষে রাখা হলো কেন সেটাও অনুসন্ধান করে দেখা উচিত। সিনিয়র সাংবাদিক স্বদেশ রায় বলেন, এমন কোনো রিপোর্ট করলে ভ্যাকসিন আসায় বাধা পাবে, আমার মনে হয় না যে, বাংলাদেশের কোনো সাংবাদিক এ কাজ করবে।

অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় ঝুঁকি থাকবে কিন্তু তার মানবাধিকার লঙ্ঘন করার অধিকার কারও নেই। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে অনুমতি ছাড়া করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিনের সরকারি নথির ছবি তোলার অভিযোগে দৈনিক প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলামের রিমান্ড আবেদন খারিজ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২০ মে) তার জামিন শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) মোহাম্মদ জসিম এ নির্দেশ দেন। প্রসঙ্গত, সচিবালয়ে অনুমতি ছাড়া করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিনের সরকারি নথির ছবি তোলার অভিযোগে রোজিনা ইসলামকে পাঁচ ঘণ্টা আটকে রাখার পর শাহবাগ থানা পুলিশে সোপর্দ করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

সোমবার (১৭ মে) রাত সাড়ে ৮টার পরে শাহবাগ থানা পুলিশের একটি টিম সচিবালয় থেকে সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে নিয়ে যায়। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব সিব্বির আহমেদ ওসমানী লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

Author: admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *