খ্রিস্টান সন্ন্যাসীদের প্রতি নবীজির অঙ্গীকারনামা

মিসরের সিনাইন উপত্যকার পাদদেশের সেন্ট ক্যাথরিন গির্জায় বাস করেন একদল অর্থডক্স সন্ন্যাসী। তাঁদের কাছে সংরক্ষিত আছে শত শত বছরের প্রাচীন দলিল ও নথিপত্র। ধারণা করা হয়, সেন্ট ক্যাথরিন পৃথিবীর প্রাচীনতম গির্জাগুলোর

অন্যতম এবং প্রাচীনতম পাণ্ডুলিপি সংরক্ষণের জন্য তাদের পাঠাগারটি বিখ্যাত। প্রায় তিন হাজার তিন শ প্রাচীন পাণ্ডুলিপি আছে সেখানে। যার মধ্যে আছে ৬২৮ খ্রিস্টাব্দে লেখা সন্ন্যাসীদের উদ্দেশে লেখা মহানবী (সা.)-এর একটি চিঠির

অনুলিপি। ঐতিহাসিক এ অঙ্গীকারনামায় মহানবী (সা.) খ্রিস্টানদের বিশেষাধিকারের সনদ প্রদান করেছেন এবং মুসলিম সমাজে বসবাসকারী খ্রিস্টানদের নিরাপত্তা প্রদানের নির্দেশনা দিয়েছেন। ঐতিহাসিক সেই অঙ্গীকারনামার অনুবাদ নিচে তুলে ধরা হলো— ‘এটি মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহর পক্ষ থেকে বার্তা তাদের প্রতি, যারা চুক্তির অংশ হিসেবে খ্রিস্টবাদ ধারণ করে; তারা কাছের হোক বা দূরের আমরা তাদের সঙ্গে আছি। প্রকৃতপক্ষে আমি, দাসরা, সাহায্যকারী ও আমার

অনুসারীরা তাদের রক্ষা করবে। কেননা খ্রিস্টানরা আমার নাগরিক। আল্লাহর কসম! আমি এমন সব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে, যা তারা অপছন্দ করে। তাদের ওপর বিশেষ কোনো বিধি-নিষেধ থাকবে না। তাদের বিচারকদের চাকরিচ্যুত করা হবে না এবং তাদের সন্ন্যাসীদের গির্জাগুলো থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হবে না। কেউ তাদের ধর্মীয় স্থাপনা ধ্বংস করবে না, ক্ষতিগ্রস্ত করবে না অথবা মুসলিমদের জন্য তা থেকে কোনো কিছু ছিনিয়ে আনবে না। কেউ এমনটি করলে সে আল্লাহর সঙ্গে কৃত অঙ্গীকার ভঙ্গ করল এবং তাঁর নবীর অবাধ্য হলো। নিশ্চয়ই তারা আমার মিত্র এবং তারা যেসব বিষয় ঘৃণা করে আমি তার বিরুদ্ধে নিরাপত্তা সনদ দিচ্ছি। কেউ তাদের ভ্রমণে বা যুদ্ধে অংশগ্রহণে বাধ্য করবে না; বরং মুসলিমরা

তাদের জন্য যুদ্ধ করবে। কোনো খ্রিস্টান নারীর অনুমতি ছাড়া কোনো মুসলিম তাকে বিয়ে করতে পারবে না। (বিয়ের পর) প্রার্থনার জন্য তাকে চার্চে যেতে বাধা দেওয়া যাবে না। খ্রিস্টানদের চার্চের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা হবে। কেউ চার্চ সংস্কার বা তার পবিত্রতা রক্ষায় বাধা দেবে না। কোনো মুসলিম কিয়ামত পর্যন্ত এই অঙ্গীকারনামার অবাধ্য হবে না।’ ১৫১৭ সালে উসমানীয় খলিফা সুলতান প্রথম সেলিম মূল অঙ্গীকারনামাটি নিয়ে যান, যা বর্তমানে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে তুপকপি জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে। তবে সুলতান একটি সত্যায়িত ও গ্রহণযোগ্য অনুলিপি গির্জা কর্তৃপক্ষকে ফেরত দেন। গির্জাটি মুহাম্মদ (সা.) এবং তাঁর পরবর্তী আরব ও উসমানীয় শাসকদের নিরাপত্তা লাভ করে আসছে। তারা সবাই গির্জাটি ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষায় সহযোগিতা করেছে। গির্জা প্রাঙ্গণে ফাতেমি আমলের একটি মসজিদও রয়েছে। ধর্মীয় সম্প্রীতির নিদর্শন হিসেবে মসজিদটি নির্মাণ করা হলেও তাতে কখনো নামাজ আদায় করা হয়নি। কেননা তাতে কিবলামুখী হওয়াসহ অন্যান্য মুসলিম রীতি মান্য করা হয়নি। (https://bit.ly/35eGYOf) উল্লেখ্য, অঙ্গীকারনামার আরো একাধিক ইংরেজি অনুবাদ অনলাইনে পাওয়া যায় এবং সেগুলোর শব্দ-বাক্যে সামান্য তারতম্য থাকলেও মূল বক্তব্য প্রায় অভিন্ন। তবে মুসলিম ও অমুসলিম বহু ঐতিহাসিক ও ইতিহাস গবেষক বলেছেন এ অঙ্গীকারনামার গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নাতীত নয়।

Author: admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *