বউয়ের মালিক শহীদুল হেফাজত করেন মামুনুল

১.বিষাদগ্রস্ত পৃথিবীতে করোনার আরেক দফা ছোবল এসেছে। দেশে লকডাউন জারি হয়েছে। হাসপাতালে হাসপাতালে রোগী ধারণের ঠাঁই নেই,

ঠাঁই নেই অবস্থা। কেবিন, শয্যা, আইসিইউ বাড়িয়েও হিমশিম খেতে হচ্ছে। রোজ অর্ধশতাধিক মানুষ সরকারি হিসাবে মৃত্যুবরণ করছে।

আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। এক দিনেই ৭ সহস্রাধিক। কতজন করোনা রোগ বহন করে স্বাভাবিক জীবনযাপন করছে, তা হিসাব নেই। ঘুম ভাঙলেই মৃত্যুর সংবাদ। রাত নামলেই শোক সংবাদ। সবকিছু বিষিয়ে উঠছে। অন্যান্য রোগের চিকিৎসা দিতে গিয়েও চিকিৎসকরা ঘাম ঝরাচ্ছেন। হঠাৎ বলা নেই, কওয়া নেই ঢাকার জনপ্রিয় এমপি আসলামুল হক অকালে আকস্মিক চিরনিদ্রা নিলেন। এই দুঃসময়ে লাশের মিছিল বাড়ছে। মানুষের শোক প্রকাশের সময়-সুযোগও মিলছে না। একটা অভিশপ্ত সময় আমরা অতিক্রম করছি। ইয়া নফসি ইয়া নফসি করছি। আল্লাহ

আল্লাহ করছি। কখন কার ডাক আসে কেউ জানে না। আল্লাহ মহান সর্বশক্তিমান এই বিপদ থেকে মানুষকে হেফাজত করুন- এ আকুতি চারদিকে। সরকার সময়ে সময়ে পদক্ষেপ নিচ্ছে। সতর্কতা দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে শুরু থেকেই তাগিদ সবখানে। কিন্তু কে শোনে কার কথা। সবখানে সবকিছুতেই আমাদের বেপরোয়া ঔদ্ধত্য মনোভাব। মূর্খতার সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ার মধ্যে বীরত্বের আনন্দ লাভ দেখা

যাচ্ছে। মাস্ক পরতে নারাজ। সামাজিক দূরত্ব মানতে অনীহা। স্যানিটাইজার ব্যবহারে অনাগ্রহ। কি সমাবেশ, কি ওয়াজ-মাহফিল, কি সামাজিক অনুষ্ঠান, কি জানাজা নামাজে মানুষের আবেগের ঢল- সবকিছুতে বেয়াড়া আবেগের কাছে ভেসে গেছে করোনা থেকে বাঁচার স্বাস্থ্যবিধি। এখন জীবন-জীবিকার লড়াইয়ের সঙ্গে করোনার আগ্রাসন থেকে বেঁচে থাকার কি আকুতি। আমাদের সাহস, মনোবল আর বিচার-বুদ্ধি ও সচেতনতা কাজে লাগাতে না পারলে এ ঢেউয়ে পরিণতি কোথায় যাবে কেউ জানি না। ২. এর মধ্যে হেফাজতের তান্ডব চলছে। করোনাও তাদের সভা-

সমাবেশ রুখতে পারেনি। গেল শুত্রুবারও বায়তুল মোকাররম মসজিদে জুমার নামাজের পর তাদের উগ্র বক্তৃতাবাজি চলেছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে এসেছিলেন। হেফাজত আর তার সরকারবিরোধী মিত্ররা জঙ্গি মনোভাবে আচরণে বিরোধিতায় নামল। তিনি চলেও গেলেন। তবু থামাথামি নেই হেফাজতের। উগ্র-রণমূর্তি নিয়েই তারা তাদের অবস্থান বহাল রেখেছে। আসলে কি নরেন্দ্র মোদির বিরোধিতার জন্যই হেফাজতের এ তান্ডব, প্রলয়লীলা? রক্তের হোলিখেলা? নরেন্দ্র মোদি তো আগেও এ দেশে এসেছেন, কই তারা তো এভাবে উগ্র সাম্প্রদায়িকতার বিষ ছড়িয়ে প্রতিবাদে নামেনি? তাহলে আজ কেন? হেফাজতের আমির আল্লামা শফীর মৃত্যুর পর উগ্রপন্থি নেতা

বাবুনগরীর হাতে এর নেতৃত্ব আসে। তার চেয়ে আরও কয়েক গুণ উগ্র তালেবানি ধাঁচের মামুনুল হকরা সাত কদম এগিয়ে আসেন। মোদি এদের কাছে অসিলা মাত্র। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক সরকার তাদের দুশমন। এ সরকারকে ফেলে দিতে পারলেই তারা মনে
করে কাবুলের তালেবানি স্টাইলে ক্ষমতা তাদের। তাদের সঙ্গে রয়েছে হাজার হাজার মাদরাসার অন্ধ ছাত্র-শিক্ষক। যাদের তারা নিষ্ঠুরভাবে হাসতে হাসতে গুলির মুখে ঠেলে দিতে পারে। হাটহাজারীকে তারা বানিয়েছে প্রশিক্ষণ ও শক্তির দুর্গ। পবিত্র বায়তুল মোকাররম মসজিদকে বানিয়েছে তাদের প্রচারে আসার কেন্দ্র। গত কয়েক যুগে সারা দেশে রাস্তার আশপাশে যেখানে সেখানে গড়ে উঠেছে কওমি মাদরাসা। এতিম

ছাত্রদের লেখাপড়ার নামে তারা শিখিয়েছে ধর্মের নামে শহীদি জীবনলাভের শিক্ষা। রাষ্ট্রের জন্মের ইতিহাস-ঐতিহ্য-সংস্কৃতি থেকে রেখেছে চিন্তা-চেতনায় উল্টো দিকে। মাদরাসাছাত্রদের কোরবানির ঈদে বাড়ি বাড়ি চামড়া আনতে পাঠায়। কোরবানি দিতে পাঠায়। মাদরাসা চালানোর সামর্থ্য নেই দেশের ক্ষমতা দখলের লোভ রাখেন এসব উগ্র সাম্প্রদায়িক হেফাজত নেতারা। সরকারের কাছ থেকে দাবি করে আদায় করতে করতে মাথায় এতটাই উঠে গেছে যে, এখন আর ভার রক্ষা করতে পারছে না। এরা লাখো শহীদের রক্তে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশকে মুক্তিযুদ্ধের সব

আবেগ-অনুভূতি, চেতনা ও আদর্শ বিসর্জন দিয়ে এক অন্ধকার তালেবানি যুগ প্রতিষ্ঠা করতে চায়। তাই তারা দাওরা পরীক্ষা মাস্টার্স সমতুল্য করেও তৃপ্ত হয়নি। পাঠ্যপুস্তকে পরিবর্তন এনেও স্বস্তি পায়নি। বাড়াবাড়ির সব সময়সীমা অতিক্রম করেছে। এই তালেবানি আদর্শের উগ্রপন্থিরা নারী শিক্ষা চায় না, নারীকে কালো বোরখায় ঢেকে দিতে চায়। নারীরা স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল, ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়ুক তারা চায় না। তারা গৃহবন্দী করতে চায়। পুরুষের পাশাপাশি নারী তার মেধা-যোগ্যতা ব্যক্তিত্বে নেতৃত্বে সমাজ ও দেশের জন্য কাজ করবে- এটা তাদের

বিকারগ্রস্ত সাম্প্রদায়িক ধর্মান্ধ চিন্তার বিষ। তারা ছেলেদেরই জ্ঞানে-বিজ্ঞানে আধুনিক ধ্যান-ধারণায় বেড়ে ওঠা, শিক্ষালাভের বিপরীতে। ছাত্ররা যত মাদরাসামুখী হবে পশ্চাৎপদ থাকবে, অন্ধকারে ডুবে থাকবে ততই তাদের লাভ। ধর্মের নামে তারা যখন তখন ব্যবহার করবে। যখন যা হুকুম দেবে বেহেশতের আশায় আগুনেও ঝাঁপ দেবে। এই যে মহাপ্রলয় ঘটাল, এই যে থানায় থানায় হামলা করাল, সরকারি অফিস-আদালত ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগে নামিয়ে দিল, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি শাবল দিয়ে ভাঙচুর চালাল, সুরসম্রাট আলাউদ্দিন খাঁর স্মৃতিবিজড়িত শিক্ষাঙ্গন ধুলোয় মিশিয়ে দিল- সবই তাদের ঠান্ডা মাথার কাজ। জাতির মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার প্রতীককে আঘাত কর, আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা ভেঙে দাও।

শিল্প-সংস্কৃতির আঁতুড়ঘর ধুলোয় মিশিয়ে দাও। সবই তালেবানি দর্শন। তুরস্কে কামাল আতার্তুক সাম্প্রদায়িক উগ্রপন্থিদের কাঠোর হাতে দমন করেছিলেন। সেখানে এরদোগানের নেতৃত্বে আজ সাম্প্রদায়িক শক্তি আধুনিক বেশে ক্ষমতায়। এখানকার জামায়াত যে রাজনীতি ও শাসন চায় তার মডেলই তুরস্ক। জামায়াত সব নিপীড়নের মধ্যেও তাদের নেতারা যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ফাঁসিতে ঝুললেও হাল ছাড়েনি। নীরবে তাদের কাজ করে যাচ্ছে। তাদের অর্থায়নে দেশে-বিদেশে উচ্চশিক্ষিত তরুণরা কাজ করছে। তারা তাদের দলের প্রতি আদর্শের প্রতি কমিটেড। কঠিন সময় পার করছে। তাদের অর্থকে তারা ব্যক্তিগত ভোগবিলাসে নয়, দলের স্বার্থে ব্যয় করে। তাদের অর্থ তারা সরকারবিরোধী দেশি-বিদেশি নানা

প্রচার-লবিংয়ে খরচ করে। হেফাজতের নেপথ্যেও তাদের অর্থ কথা বলছে। হেফাজতই নয়, এমন কোনো দল নেই আওয়ামী লীগ-বিএনপি হোক যেখানে জামায়াতের লোক নেই। জামায়াতের টাকা কথা বলে না এমন কোনো জায়গা নেই। শেখ হাসিনার সরকারবিরোধী ছোট দল থেকে তথাকথিত বুদ্ধিজীবীরাও টাকার ভাগটা ঠিকমতো পায়। জামায়াতও হেফাজত দিয়ে সরকার পতন ঘটিয়ে তাদের ফ্যাসিস্ট শাসন চায়। বিএনপিও চায় হেফাজতে ভর করে ক্ষমতায় আসতে। আর হেফাজত চায় তাদের তালেবানি শাসন। এর কোনোটাই দেশের জন্য আশীর্বাদ নয়, অভিশাপ।

Author: admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *